ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে কমিউনিস্ট নেতা ভ্লাদিমির লেনিনের ভাস্কর্য বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়ার পর একই ধরনের আরও কিছু ঘটনা ঘটেছে অন্যান্য কয়েকটি রাজ্যে। বিজেপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার একের পর এক অভিযোগের মুখে পরিস্থিতি গুরুতর দিকে মোড় নিতে শুরু করায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই এসব হামলার ঘটনার বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাতে তামিলনাড়ু রাজ্যের ভেলোরে দ্রাবিড় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নেতা এবং সমাজসংস্কারক প্রয়াত ই ভি আর রামস্বামীর একটি ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। রামস্বামী পেরিয়ার নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। ভাস্কর্য ধ্বংসের এ ঘটনায় উস্কানি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে।
ভেলোরের ওই ভাস্কর্যের ঘটনা বেশি জানাজানি হওয়ার আগেই আরও একটি ঘটনা ঘটে গেছে পশ্চিমবঙ্গে। রাজ্যের কলকাতায় সকালে কেওড়াতলা শ্মশান সংলগ্ন সিআর দাশ পার্কে প্রয়াত শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিক শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর ভাস্কর্য হাতুড়ি দিয়ে ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করেছে একদল তরুণ-তরুণী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে হিন্দুস্থান টাইমস জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৮টার দিকে ওই পার্কের গেট ডিঙ্গিয়ে ছয় তরুণ ও এক তরুণী ভেতরে ঢুকে পড়ে। ঢুকে হাতে পোস্টার নিয়ে শ্যামাপ্রসাদের ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ স্লোগান দেয় তারা। তারপর হঠাৎ করেই ছেনি-হাতুড়ি নিয়ে ভাস্কর্যটির ওপর তারা হামলা চালায়। আবক্ষ ভাস্কর্যের মুখমণ্ডল খানিকটা বিকৃত করার পর সেখানে তারা কালি লেপে দেয়।
পুলিশ ওই সাতজনকেই ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। লেনিন ও রামস্বামীর ভাস্কর্য ধ্বংসের ঘটনার সঙ্গে বিজেপির নাম জড়িত থাকলেও শ্যামাপ্রসাদের ঘটনায় হামলাকারীদের ‘অতি-বাম’ চিন্তাধারার শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের ফেলে যাওয়া পোস্টারের নিচে ‘র্যাডিক্যাল’ লেখা ছিল।
শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী আগে জাতীয় কংগ্রেস করলেও পরে বেরিয়ে এসে ১৯৫১ সালে ভারতীয় জনসঙ্ঘ নামের একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। বছর দু’য়েক পর ১৯৫৩ সালে তিনি মারা যান।
১৯৭৭ সালে ভারতীয় জনসঙ্ঘ মিশে যায় কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসা জনতা পার্টির সঙ্গে। তবে বছর তিনেকের মধ্যে এই পুরনো ‘জনসঙ্ঘী’রাই জনতা পার্টি ভেঙ্গে আলাদা করে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) তৈরি করেন। লেনিন যেমন বামপন্থিদের কাছে অন্যতম আইকন, শ্যামাপ্রসাদও জনসঙ্ঘীদের কাছে তাই।








