টি-টুয়েন্টির পর ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নও দেখছে নেপাল। চার বছর আগে খেলা ছোট ফরম্যাটের বিশ্ব আসরের পর ওয়ানডেতে তাদের স্বপ্ন বাঁচিয়ে দিয়েছে দুই টেলএন্ডার ব্যাটসম্যান। শেষ উইকেট জুটির বীরত্বে নামিবিয়ায় আইসিসি ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লিগের ডিভিশন টু-তে কানাডাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে জায়গা করে নিয়েছে নেপাল।
শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে নেপালের হারটা হাতছানি দিচ্ছিল। কিন্তু কানাডার দেয়া ১৯৫ রান তাড়া করতে নেমে শেষ জুটির ৫১ রানের কল্যাণে ‘অসম্ভব’ জয় তুলে নেয় তারা।
১৯৫ রানের টার্গেটে নেমে একপর্যায়ে ১৪৪ রান তুলতেই ৯ উইকেট হারিয়েছিল নেপাল। ১ উইকেট হাতে নিয়ে তখন ওভার বাকি ৭.৫টি। এসময় কারান কেসি চারটি ছক্কা মেরে তৈরি করেন জয়ের সম্ভাবনা। জয়ের জন্য শেষ ১২ বলে নেপালের প্রয়োজন ছিল ২১ রান। ৪৯তম ওভার থেকে ১৩ রান তুলে নেন নেপালের দশ ও এগারো নম্বর ব্যাটসম্যান।
শেষ ওভারে ৮ রান দরকার পড়লেও যেন পেরে উঠছিলেন না তারা! কানাডার কম খরুচে বোলার সেসিলে পারভেজের প্রথম চার বল থেকে কোন রানই নিতে পারেননি ২৫ বলে ৩৫ রান করে অপরাজিত থাকা নেপালের কারান কেসি। মনে হচ্ছিল নেপালের বিশ্বকাপ খেলার সুযোগের পথটা বুঝি হাতছাড়া হয়েই গেল!
কিন্তু কারান ওভারের পঞ্চম বলটাতে ছক্কা মারেন। পরের বলে ওয়াইডে এক রান। শেষ বলে এক রান নিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে পাওয়ার উল্লাসে মেতে ওঠেন নেপালি ক্রিকেটাররা। দশ নম্বর ব্যাটসম্যান কারান কেসিই নেপালের সর্বোচ্চ স্কোরার (৪২ বলে ৪২)।
এর আগে শ্রীমন্থা উইজারের সেঞ্চুরির পরও নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৯৪ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় কানাডা।
অন্য ম্যাচে নামিবিয়ার বিপক্ষে ১৯ রানে জিতে কোয়ালিফাইং নিশ্চিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৪৭ রান তোলে সংযুক্ত আরব আমিরাত। পরে ৪৮.৪ ওভারে গুটিয়ে যাওয়ার আগে ২২৪ রান তোলে নামিবিয়া।
ইংল্যান্ডে ২০১৯ সালে অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে আইসিসির ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশ দেশ। বাকি দুটি দল আসবে বাছাইপর্ব খেলে। আগামী ৪ মার্চ জিম্বাবুয়েতে শুরু হবে এই বাছাইপর্ব। এতে খেলবে ১০টি দেশ— ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তান, হল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, হংকং, পাপুয়া নিউগিনি, নেপাল ও আরব আমিরাত।








