রাওয়ালপিন্ডিতে তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের দুই উইকেট তুলেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ রান তুলেছে স্বাগতিক দল। সবমিলিয়ে ২১ রানের লিড নিয়েছে তারা। লিটনের সেঞ্চুরি, মিরাজের ফিফটিতে প্রতিরোধ গড়ে প্রথম ইনিংসে ২৬২ রানে থামে বাংলাদেশ।
বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথমদিনে খেলা হয়নি। পরেরদিনে প্রথম ইনিংসে ২৭৪ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। জবাবে বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের দেড়শ পেরোনো প্রতিরোধ, পরে হাসান মাহমুদের সাথে লিটনের ৬৯ রানের জুটিতে ২৬২ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের দুটি উইকেটই নিয়েছেন ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদ।
রোববার রাওয়ালপিন্ডিতে দ্বিতীয় টেস্টে তৃতীয় দিনের শুরুতে ব্যাটিংয়ে ধস নামে বাংলাদেশের। সকালে বোর্ডে ১৬ রান যোগ করতে ৬ উইকেট হারিয়ে বসে টিম টাইগার্স। আগেরদিন বিনা উইকেটে বাংলাদেশ করেছিল ১০ রান।
একে একে সাজঘরে ফেরেন জাকির হাসান (১), সাদমান ইসলাম (১০), নাজমুল হোসেন শান্ত (৪), মুমিনুল হক (১), মুশফিকুর রহিম (৩) ও সাকিব আল হাসান ২ রান করে।
সেখান থেকে হাল ধরেন উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন ও মিরাজ। দুজনে সপ্তম উইকেট জুটিতে করেন ১৬৫ রান। অলরাউন্ডার মিরাজ ১২৪ বলে ৭৮ রানে খুররাম শেহজাদের হাতে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান। তার ইনিংসে ১২ চার এবং এক ছক্কার মার। আউট হওয়ার আগে দ্বিতীয়বার একই টেস্টে ৫ উইকেট এবং ফিফটির কীর্তি গড়েছেন ২৬ বর্ষী তারকা।
মিরাজের আউটের পর হাল ধরে রাখেন লিটন। তার ১৩৮ রানের ইনিংসে আড়াইশ পেরিয়ে থামে বাংলাদেশে প্রথম ইনিংস। ২৭ মাস পর সেঞ্চুরির দেখা পান লিটন। ২৯ বর্ষী ডানহাতি তারকা সেঞ্চুরি করেন ১১ চার এবং ২ ছক্কা মেরে, খেলেন ১৭১ বল। ক্যারিয়ারের ১৮তম ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে পরিণত করেন। লিটন বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে পাকিস্তানের বিপক্ষে একাধিক সেঞ্চুরি ছুঁলেন। শেষপর্যন্ত ২২৮ বলে ১৩৮ রানে আউট হন। পাকিস্তানের মাটিতে এটি প্রথম হলেও দেশটির বিপক্ষে তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। প্রথমটি ছিল ২০২১ সালে, চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে।
লিটন-মিরাজের সপ্তম উইকেট জুটি ভাঙে ১৬৫ রানে যেয়ে। এটিতে রেকর্ড হয়েছে, টেস্ট ক্রিকেটে পঞ্চাশের আগে ৬ উইকেট হারানোর পর এটি সর্বোচ্চ রানের জুটি। আগের সর্বোচ্চ রানের জুটি ছিল পাকিস্তানের আব্দুর রাজ্জাক ও কামরান আকমলের। ২০০৬ সালে করাচি টেস্টে ভারতের বিপক্ষে ৩৯ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর ১১৫ রানের জুটি গড়েছিলেন।
খুররম শেহজাদ একাই নিয়েছেন ৬ উইকেট। দুটি করে উইকেট নিয়েছেন মীর হামজা ও সালমান আলী আঘা।
বৃষ্টির কারণে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথমদিন টস হয়নি। দ্বিতীয় দিনে টসে হেরে পাকিস্তান ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ইনিংসে আড়াইশ পেরোয়, অলআউট হয় ২৭৪ রানে। প্রথম ইনিংস থেকে ১২ রানের লিড তুলেছে পাকিস্তান। চতুর্থ দিনে অপরাজিত থাকা সাইম আয়ুব ৬ রানে লিড বাড়াতে নামবেন।
সিরিজে ১-০তে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।








