ইউনিভার্সিটি অফ ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ছাত্র আবরার আমিন। ৫ বছর আগে পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশ ছেড়ে পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ার পার্থে। ছিমছাম পরিপাটি এক শহর পার্থ।
২০১৮ বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাই খেলতে বাংলাদেশকে সেখানেই আমন্ত্রণ জানিয়েছিলো ফুটবল অস্ট্রেলিয়া। আর সে ম্যাচটি এক রকম ‘ঈদ’ হয়েই এসেছিলো আবরারদের জন্য। অবশ্য শুধু আবরার বা তার পরিবারই নয় পার্থে থাকা সকল বাংলাদেশীর কাছেই ৩ সেপ্টেম্বর ছিলো উৎসবের দিন।
ম্যাচের আগের দিন সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি। চারদিক থেকে ফোনে ফোনে ব্যস্ত পার্থ প্রবাসী বাংলাদেশীরা। ম্যাচের খোঁজ খবর নেয়ার পাশাপাশি একে অন্যের কাছে জেনে নিচ্ছিলেন এনআইবি স্টেডিয়ামে কে কখন প্রবেশ করবেন, কে কী পড়বেন, কার জার্সি কী রকম হবে এসব।
তবে এই জার্সি নিয়ে বেশ গোলক ধাধায় পড়তে হয়েছে তাদের। বাংলাদেশ দলের জার্সি আসলেই এক রহস্যের বিষয়। কোনটা আসলে জাতীয় দলের মূল জার্সি কেউই বলতে পারেন না। এমনকি ম্যানেজমেন্ট নিজেরাও না। বাংলাদেশ থেকে ম্যাচ কাভার করতে পার্থে যাওয়া ক্রীড়া সাংবাদিকদের কাছে অনেকে জানতে চেয়েছিলেন এমিলি-মামুনুলরা কি রকম জার্সি পড়ে ম্যাচ খেলতে নামবেন। কেউই তাদের সঠিক তথ্য সরবরাহ করতে পারেন নি। বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের জার্সি পড়ে মাঠে এসেছিলেন অনেকেই। তাদের কথা- যে খেলাই হোক তাতে কি ‘বাংলাদেশ’ তো ! দর্শকদের কথা বাদই দিলাম, তারাতো আর মাঠে নামেন নি।
মাঠে নেমে ৯০ মিনিট যারা বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন তাদের গায়ে লাল সবুজ রং থাকলেও কোথাও ‘বাংলাদেশ’ শব্দটি ছিলো না। আরও দুর্ভাগ্যজনক জার্সি পড়লেও মাঠে কে খেলছেন তাও বোঝার কোন ব্যবস্থা ছিলো না। নিজের নাম পরিচয়হীন জার্সি পড়েই এনআইবি স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দেড়ঘন্টা লড়াই করেছেন মামুনুল-এমিলি-এনামুল-হেমন্ত ভিনসেন্টরা। জার্সি নম্বরেও ছিলো গন্ডগোল। এমিলির ১০ নম্বর জার্সি ছিলো হেমন্তের গায়ে, জাহিদের ৭ নম্বর ছিলো পুরো ম্যাচে নিশ্প্রভ হয়ে থাকা এনামুলের পড়নে।
মাঠ ভর্তি দর্শকরা জানতেও পারলেন না কারা খেললেন বাংলাদেশের জন্য। আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলা শেষে দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে জার্সি বদল করার নিয়ম। সেখানেও নাকি ‘অসম্মান’ হজম করতে হয়েছে বাংলাদেশ দলকে। খেলা শেষে নিজের নামহীন জার্সি টিম কাহিলকে দিতে গিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন মামুনুল। অস্ট্রেলিয়ান স্টার নাকি তা ফিরিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন তোমাদের দেশে যখন যাবো তখন দিও। নামটা লিখে দিও। না হলে মনে থাকবে না।
বিভিন্ন দলের জার্সি সংগ্রহ করা আবরার আমিনের অন্যতম শখ। তার সংগ্রহের তালিকায় আছে অনেক দলের জার্সি। বাংলাদেশ জাতীয় দলের আনঅফিশিয়াল একটি জার্সিও দেখা গেলো। সেটিকেই পরম যত্নে বিদেশের মাঠে অনেক গর্ব করে নিজের শরীরে ধারণ করে আবরার। পার্থের রাস্তায় সেটিইতো এক টুকরো বাংলাদেশ।
অথচ যারা বাংলাদেশের ফুটবলকে ব্র্যান্ডিং করার গুরু দায়িত্ব পালন করছেন তাদের কাছে পাত্তাই পায়না এ ধরনের জার্সি প্রেম আর ফুটবল আবেগ। এত দিনেও জাতীয় দলের জন্য একটি অফিশিয়াল জার্সি ঠিক করতে পারলো না ফুটবল ফেডারেশনের।
যা হোক আমাদের আশা, ডিসেম্বরে টিম ক্যাহিলরা আসার আগেই জাতীয় দলের জন্য একটি জার্সি নির্দিষ্ট করবে বাফুফে। সেখানে বড় বড় অক্ষরে লেখা থাকুক বাংলাদেশ। আর কাঁধের কাছে লেখা থাকুক মামুনুল-এমিলি-হেমন্তদের নামও।







