নেপাল-পাকিস্তান ম্যাচে সংখ্যাটা ছিল শ-পাঁচেক। বাংলাদেশ ম্যাচের আধাঘণ্টা আগে থেকে ফাঁকা গ্যালারি ভরে উঠতে শুরু করল শতশত দর্শকে। একটা সময়ে সংখ্যাটা ছাড়িয়ে গেল হাজার হাজারে। ভুটানের বিপক্ষে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবলে বাংলাদেশ যখন মাঠ মাতিয়ে চলল, গ্যালারিতে থাকল তাই লাল-সবুজের জন্য গগনবিদারী চিৎকার তোলা সমর্থন!
কিছুদিন আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রীতি ম্যাচে টিকিটের জন্য হাহাকার করেছিলেন নীলফামারীর দর্শকরা। তখন প্রশ্ন উঠেছিল রাজধানী ঢাকার মানুষ কী তবে ফুটবল ভুলে যেতে শুরু করলেন?
ফুটবল যে ভুলে যাননি সেটার প্রমাণ দিতেই যেন ভুভুজেলা, ব্যানার-ফেস্টুন, পতাকা-ঢোল নিয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে হাজির হাজার হাজার ঢাকাই দর্শক। মাঠে যখন খেলেছেন ফুটবলাররা, দর্শকরা তখন মাতিয়ে রেখেছেন গ্যালারি। গোল পেলে গলা ফাটিয়েছেন, আবার ভুল করলে টিটকারি-গালি ছুঁড়তে দ্বিধা করেননি! রাতের আলো-আধারিতে এ যেন ৮০’র দশকের ঢাকা স্টেডিয়াম!
দর্শকখরায় একটা সময় গ্যালারির দরজা উন্মুক্তই করে দিয়েছিল বাফুফে। উদ্দেশ্য ছিল একটাই- দর্শক ফেরানো। মঙ্গলবারের ম্যাচে অন্য এক অভাবনীয় দৃশ্যই দেখেছেন দেশের অভিভাবক সংস্থাটির হর্তাকর্তারা। এমনকি ম্যাচের টিকিট বিক্রি হয়েছে কালোবাজারেও!

চাহিদা থাকায় একটা সময় ৩০ টাকা মূল্যের টিকিটের দাম গিয়ে দাঁড়ায় ৫০ টাকায়! এমনকি যারা মাঠে ঢুকতে পারেননি, তারাও বাইরে থেকে খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করেছেন কেমনে খেলছে বাংলাদেশ? খেলায় সম্ভাবনা কতটুকু? ভুটানই বা কতটুকু এগিয়ে? মানে মাঠের বাইরেও ছিল আগ্রহী সমর্থকদের জটলা।
এশিয়ান গেমস ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলার ধরণ দেখে ধারণা করা হচ্ছিল এবার মাঠে ফিরতে পারে দর্শক। যদিও লঙ্কানদের কাছে ম্যাচটা হেরেছিল স্বাগতিকরা, তবে খেলায় গতি আর আক্রমণ মন ভরিয়েছে দর্শকদের। তবে মঙ্গলবারের মাঠে উপস্থিত দর্শকদের সংখ্যাটা ছাড়িয়ে গেল ধারণাকেও। শেষ এমনটা দেখা গিয়েছিল বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে।
মাঠে এসে হতাশ হননি দর্শকরাও। দেখেছেন ভুটানের বিপক্ষে ২-০ গোলে বাংলাদেশের জিদ মেটানো এক জয়। সেই ভুটান, যারা তিন বছর আগে হতাশার এক হার দিয়ে দুই বছরের নির্বাসনে পাঠিয়েছিল মামুনুলদের। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে লাল-সবুজদের মিডফিল্ডার মাসুক মিয়া জনি কৃতজ্ঞা জানাতে ভুললেন না মাঠের দর্শকদের। সমর্থকরা কতটা সাহায্য করেছেন তিন বছর আগে পাওয়া সেই ক্ষতের জ্বালা জুড়াতে মনে করিয়ে দিলেন।

‘অনেকদিন পর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রচুর দর্শক এসেছে। অবশ্যই আমরা উজ্জীবিত হয়েছি, দর্শকদের হাততালি আর উৎসাহের কারণে। ভুটানের কাছে হারার পর আমাদের ফুটবলটা ২৩ মাস ধরে নিচে নেমে গিয়েছিল। সেই ম্যাচ থেকেই আমাদের জিদ ছিল, আমরা ভুটানের বিপক্ষে জিতবই। কোচ আমাদের বলেছিলেন, তোমারা স্বাভাবিক থাকো, তাহলে ম্যাচে জিতবেই। আমরা সেটাই করেছি।’
শিষ্যের কথা ধরে দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন লাল-সবুজদের কোচ জেমি ডেও। পরের ম্যাচগুলোতেও দর্শকরা এমন সমর্থন জানাবেন বলে আশা তার। অবশ্য প্রতি ম্যাচে জয় পেলে দর্শকরাও যে বাংলাদেশ কোচের কথায় সাড়া দেবেন সেটা না বলে দিলেও চলছে!








