সাকিব, আফ্রিদি, মোসাদ্দেক, পোলার্ডরা বল উড়িয়ে মারছেন। বাউন্ডারির জন্য নির্ধারিত সীমানা পেরিয়ে বল পড়ছে দর্শকসারিতে। প্রিয় ক্রিকেটারদের ব্যাট ছুঁয়ে আসা বল ধরাকেই অনেক পাওয়া মনে করে উল্লাসে মেতে উঠছেন সকলে। হাততালির শব্দে উঠছে তরঙ্গের ঢেউ। হইচই, আনন্দ, আর আড্ডায় এভাবেই এক আবেগঘন দিন কাটল বিপিএল দল ঢাকা ডায়নামাইটসের ক্রিকেটারদের।
বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার লালবাগ কেল্লায় স্থানীয়দের নিয়ে বৃষ্টিস্নাত এক বিকেল পার করেছেন সাকিবরা। বিদায়বেলায় ডায়নামাইটসের অধিনায়ক সকলের কাছে চাইলেন দোয়া।
গত আসরে সাকিবের নেতৃত্বেই শিরোপা জিতেছিল ঢাকা। এবারও যাতে সাফল্যধারা অক্ষুণ্ণ থাকে সেজন্যই সাকিবের এমন চাওয়া, ‘আজ এমন একটি ঐতিহাসিক জায়গায় আসতে পেরে ভাল লাগছে। সবার সমর্থন চাই বিপিএলে। সবার কাছে ঢাকা ডায়নামাইটসের জন্য দোয়া চাই।’
দারুণ সময় কাটানোর দিনে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত অবশ্য কেবল ক্রিকেট নিয়েই বললেন না। শৈশবে ফিরে যাওয়ার অনুভূতির কথাই সবার আগে মনে হল ডায়নামাইটস পরিবারের এই তরুণ সদস্যের, ‘অনেকদিন পর ছোটবেলার স্বাদ পেলাম। এত দর্শকের মাঝে খেলতে পারলাম। সবাই সাপোর্ট করবেন। বিপিএলে সেরা পারফরম্যান্স যেন দেখাতে পারি। সবাই এক সাথে পারলে দলের জন্য লাভ হবে। পারফর্ম করতে সহজ হবে।’

টেনিস বলের প্রীতি ম্যাচে সবচেয়ে বেশি মজা করেছেন পাকিস্তানি ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদি। আদতে লেগস্পিনার আফ্রিদি এদিন করেছেন পেস বল! পরে জানালেন বাংলাদেশ নিয়ে তার ভাল লাগার কথা, ‘বাংলাদেশ আমি সবসময় উপভোগ করি। এটা আমার সেকেন্ড হোম। এখানে ক্রিকেট খেলতে আসা উপভোগ করি। সবসময় ভাল সাড়া পাই। কেল্লায় আসা কেবল ক্রিকেট খেলতেই নয়। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা এখানে এসেছি। আমাদের দলের অনেক ভক্ত এখানে আছে। এখানে আসতে পেরে আমি খুবই খুশি।’
ঢাকা ডায়নামাইটসকে লালবাগ কেল্লায় নিয়ে যাওয়ার আয়োজন করে ওমেরা এলপি গ্যাস। কোম্পানিটির কর্মীরাই ছিলেন ৫ ওভারের ম্যাচে সাকিবদের প্রতিপক্ষ। ক্রিকেট ম্যাচের চেয়ে ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন করানোই ছিল আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। তবে একটু বেশি সিরিয়াস হয়েই খেলেছেন সাকিব। পরপর তিন বলে মেরেছেন ছক্কা। তাতে জয় হয়েছে ঢাকারই!








