ফকির লালন সাঁই এর ধামে অনুষ্ঠিত সাধুসঙ্গে দীর্ঘ ১৩ বছর যাবৎ অংশগ্রহণ মূলক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতিতে নির্মাণ হয়েছে প্রামাণ্যচিত্র ‘ভাবনগর’। প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করতে ২০০৪ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত একাগ্রতার সঙ্গে লেগে ছিলেন মঞ্জুরুল হক। শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে সেই প্রামাণ্যচিত্রটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হল।
উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন ছবিটির নির্মাতা মঞ্জুরুল হক, নির্বাহী প্রযোজক আয়েশা হক, সহযোগী প্রযোজক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন এবং প্রামাণ্যচিত্রটির অন্যান্য কলাকুশলীরা।
দীর্ঘ ১৩ বছর নির্মাণ কালে সাধু-ফকিররাও নির্মাণ প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে উঠেছিলেন। সাধু-ফকিররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁদের তত্ত্ব, সাধনা ও সমাজ ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন। প্রত্যেক প্রহরে পরিবেশিত সংগীত তাৎক্ষণিকভাবে রেকর্ড করা হয়েছে। সাধু-ফকিরদের সেইসব আলাপ ও সংগীতের মালা গেঁথে ‘ছবিঘর’ এর ব্যানারে ‘ভাবনগর’ প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মিত হয়েছে।
এ প্রামাণ্যচিত্রটি পরিচালনার পাশাপাশি চিত্রনাট্য, সম্পাদনা ও সংগীত পরিচালনাও করেছেন নির্মাতা নিজেই। প্রদীপ আইচ ও আব্দুল আজিজের সাথে যৌথভাবে চিত্রগ্রহণের কাজও করেছেন নির্মাতা মঞ্জুরুল হক। শব্দগ্রহণে ছিলেন রবিউল ইসলাম নান্নু।

প্রামাণ্যচিত্রটির মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে ‘সাধুসঙ্গ’। চব্বিশ ঘন্টাব্যাপী সাধুসঙ্গ আট প্রহরে বিন্যস্ত। প্রত্যেক প্রহরের আচার, আলোচনা ও সংগীতের আঙ্গিক ও বিষয়বস্তু ভিন্ন ভিন্ন। যেমন- দৈন্যতা, সৃষ্টিতত্ব, গুরু-ভক্ত সম্পর্ক, কাম, প্রেম, রস, রতি, নারী-পুরুষ যুগল সাধনা, গোষ্ঠ লীলা, রাধা-কৃঞ্চ ও শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর লীলা সংকীর্তন, সমাজ ভাবনা ও যুগল মিলন।
ভাবুক, পদকর্তা ফকির লালন সাঁই প্রায় দুইশত বছর আগে বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার ছেউড়িয়া গ্রামে দোল পূর্ণিমায় যে সাধুসঙ্গ শুরু করেছিলেন তা আজো প্রতি বছর তাঁর ভক্ত-অনুসারীরা উদযাপন করে আসছেন। ফকির লালন সাঁই তাঁর জগৎ-জীবন নিয়ে যে ভাবনা তা প্রকাশ করেছেন সংগীতের মাধ্যমে এবং সেই সংগীত আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবেশিত হয় সাধুসঙ্গে। একইসাথে সাধু-ভক্তদের পারস্পারিক ভাব বিনিময়ের মাধ্যমও এই সাধুসঙ্গ।







