অবিলম্বে দেশ পরিচালনায় ‘লাইসেন্সহীন’ সরকারের পদত্যাগ ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
শুক্রবার নয়াপল্টনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যাটি জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য স্কুল-কলেজ পড়া এই সকল কিশোর-কিশোরীদের আমরা অভিনন্দন জানাই। শিক্ষার্থীরা অপশাসন, দু:শাসন ও অব্যবস্থাপনার অভিঘাত অভূতপূর্ব আন্দোলনে তুলে ধরতে পেরেছে। গাড়ির বৈধ ডকুমেন্টস, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির ইনস্যুরেন্সের মতো অতি সাধারণ বিষয়গুলোও সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব বালক-বালিকা’রা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে অবৈধ সরকার কোন কাজই করতে পারে না। আবার একই সঙ্গে আরও দেখিয়ে দিয়েছে-সুশাসন ও গণতন্ত্র কায়েম করা গেলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশকেও ইতিবাচক পথে পরিচালনা করা যাবে। জনমন থেকে হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন তারা পূণ:প্রবর্তন করেছে। পরিবর্তনের অসীম আশা জাগিয়েছে দেশবাসীর মনে; এটা অনেক বড় কাজ, সে দায়িত্ব এই নিষ্পাপ শিশু-কিশোররাই সম্পন্ন করেছে। কিন্তু অবৈধ সরকার এসব মানতে পারছে না। তাই এই বাচ্চাদের উপর চড়াও হয়েছে সরকার।
রিজভী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু নিয়ে হাসি-তামাশা ও পরিবহন সেক্টরে অরাজকতা সৃষ্টিকারী নৌ-পরিবহন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ নিরাপদ সড়কের গণদাবিকে জনগণ ন্যায্য বলে মনে করে। কিন্তু কোমলমতি এসব শিক্ষার্থীদের উপর সরকার গুডা বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে আক্রমণ করেছে। গতকাল বিকেলে মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনরত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর হঠাৎ করে সশস্ত্র নিষ্ঠুর হামলা চালায় পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ।এসব হামলার দৃশ্যের সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে।
‘আমি আহবান জানাই-ঐতিহাসিকভাবে শিক্ষণীয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলনের ওপর হামলা নির্যাতন বন্ধ হোক। শিশু-কিশোরদের রক্তঝরানোর জন্য দায়ী সরকারি গুন্ডা-পান্ডাদের শাস্তি পেতে হবে’- রিজভী।
বিএনপির এই নেতা বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সরকার কিভাবে ডাইভার্ট করেছে, কিভাবে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে তা কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও ভুলে যায়নি। আপনারা দেখেছেন-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত পরশু দিনও বলেছেন-শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নিয়েছে সরকার। তারপরও গতকাল শিক্ষার্থীরা মাঠে কেন, কারণ এই কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও এই সরকারকে বিশ্বাস করে না।
এসময় রিজভী অভিযোগ করে বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের যৌক্তিক দাবিগুলোকে অগ্রাহ্য করার জন্যই মন্ত্রীদের নির্দেশেই গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে। অথচ সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নিরাপত্তার জন্য পরিবহন মালিকরা বাস রাস্তায় নামাচ্ছে না। মূলত সরকার কোনো কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। তারা পুরোপুরি ব্যর্থ। লাইসেন্সহীন এই সরকারকে পদত্যাগ করাতে হবে।







