যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশন চলাকালে ওয়েস্টমিনিস্টার ব্রিজ এবং পার্লামেন্টের বাইরে হওয়া সন্ত্রাসী হামলার মতো এমন কোনো কৌশল অনুসরণ করে একেবারে হঠাৎ করে একটি হামলা যে হতে পারে তা এর আগের হামলাগুলোর তদন্ত এবং সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে আগেই বুঝতে পেরেছিল ব্রিটিশ নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ। তারা সেজন্য মানসিক এবং সম্ভাব্য কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েই অপেক্ষা করছিলো বলে জানিয়েছে বিবিসি।
তাদের মতে, সন্ত্রাসবাদের উদ্দেশ্য শুধু খুন-জখম নয়। এর মূল লক্ষ্য আতঙ্ক এবং এমন বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি, যেন তা একটি শহর বা দেশের শাসনব্যবস্থার ভিত নড়িয়ে দেয়। আর লন্ডনের হামলাকারী যতটা সম্ভব সবচেয়ে কম প্রযুক্তি ব্যবহার করেই কাজটি করেছে। আর এমন একটি হামলা লন্ডনে হতে পারে আগে থেকেই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এমন আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছিল।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, সন্ত্রাসী ও জঙ্গিরা এখন আর ব্যাপক আকারের জটিল বোমা আর মাসের পর মাস ধরে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ভাবে না। এ ধরণের হামলা সম্পর্কে পশ্চিমা নিরাপত্তা সংস্থাগুলো, বিশেষ করে এমআই৫ এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো খুব সহজেই তথ্য খুঁজে পেয়ে যায় এবং পরিকল্পনা ভণ্ডুল করে দেয়।
কেননা বড় হামলার পরিকল্পনায় সময় লাগে বেশি, বেশি সংখ্যক মানুষকে জড়াতে হয়। এর ফলে কোনো না কোনো উপায়ে সরকার বা নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কাছে খবর চলে যাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

২০০৫ সালের পর থেকে এ ধরণের বড় হামলা মোকাবিলা করার জন্য বারবার নতুন ধরণের প্রশিক্ষণ পেয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীগুলো। আর তাই হামলাকারীরাও তাদের পরিকল্পনা এবং হামলার ধরণ পাল্টেছেন। তার ফল হিসেবেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ২০০৮-এ এসেছে ভয়াবহ মুম্বাই হামলা, তারপর একে একে প্যারিস, নিস এবং অন্য হামলাগুলো।
সন্ত্রাসী হামলার সাম্প্রতিক একটি কৌশল হলো গাড়িচাপা দিয়ে এক সঙ্গে অনেক মানুষ হত্যা। আল-কায়েদা, অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা এবং আইএসসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের ইংরেজি ওয়েবসাইট ও ম্যাগাজিনে বেশ কয়েকবারই এই কৌশলে হামলার জন্য উৎসাহ দেয়া হয়েছে।
বিশ্বনেতারা এ হামলার ঘটনায় নিন্দা এবং যুক্তরাজ্যের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন।








