গত কয়েক বছরের ব্লগার-প্রকাশক হত্যার ঘটনায় নিত্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনামে এসেছে বাংলাদেশের নাম। বিদেশী বন্ধুদেরও আগ্রহ তৈরী হয়েছে এ ইস্যুতে। কিন্তু এটা যে একজন বাংলাদেশী হিসেবে কতোটা লজ্জার তা ফেসবুক স্ট্যাটাসে তুলে ধরেছেন প্রবাসী শিক্ষক ও গবেষক সেজান মাহমুদ।
তিনি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন: একটি গরীব দেশের নাগরিক হয়ে পৃথিবীর বহু ধনী দেশে গিয়েছি, কিন্তু কোনদিন মাথা নিচু করি নি, কোনদিন দারিদ্র নিয়ে লজ্জিত হই নি। উল্টো অন্যদের লজ্জা দিতাম। কারণ, এই দারিদ্র্যের জন্যে তো আমরা একা দায়ি নই। বরং বাংলা ভাষা, ভাষা নিয়ে সংগ্রাম, স্বাধীনতা অর্জনের জন্যে নূন্যতম অস্ত্র নিয়ে লড়াই এইসবই ছিল অহংকার করার মতো।
একবার আমেরিকার একটা বড় অফিশিয়াল নৈশভোজে গেছি। টেবিলে কথা বলতে বলতে একজন জিগ্যেস করলো, “তুমি কোথা থেকে এসেছো?” আমি বাংলাদেশ বলাতে সেই ভদ্রলোক (?) চূড়ান্ত অসংবেদনশীলতার পরিচয় দিয়ে বললেন, “ওহ, তোমাদের ওখানে তো অনেক মানুষ না খেয়ে মরে, তাই না?” আমি দাঁড়িয়ে সকলের সামনে বলেছিলাম, “হ্যা, আমাদের ওখানেই শুধু না, পৃথিবীর বহু খানে, আসলে পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশ মানুষ প্রতিদিন ঘুমুতে যায় অপর্যাপ্ত খাবার খেয়ে বা না খেয়ে। তার কারণ কি জানো? তোমাদের মতো লোকগুলো অতিরিক্ত খায় জন্যে, অন্যের টা খায় জন্যে।”
আরেকবার একজন বাংলাদেশের বন্যা, জলোচ্ছ্বাস নিয়ে কথা বলেছিল। আমি উত্তরে বলেছিলাম, হ্যা আমাদের ঝড়, বন্যা হয় আর সীমিত সম্পদ নিয়ে আমরা ম্যানেজও করি। আর তোমরা তো ক্যাট্রিনা হবার পরে দেখিয়ে দিলে মিস ম্যানেজমেন্ট কাকে বলে। আমাদের কাছে থেকে শিখতে পারো। এই বিষয়গুলো নিয়ে উত্তর দিতে কুন্ঠাবোধ করি নাই কারণ, এগুলো আমাদের দোষের কিছু না।
আর এখন বাংলাদেশ শুনলেই, “অহ, তোমাদের ওখানে তো ব্লগার মারা হয়।”, নিজে লেখালেখি করি জন্যে অনেকেই জিগ্যেস করে, তোমার বই বের হলো? ওখানে কি যেতে পারো? কেউ কেউ বেশি খবর রাখে আর জিগ্যেস করে, “আর প্রোগ্রেসিভ রাইটার্স সেইফ ওভার দেয়ার?”
আমি মাথা নিচু করে থাকি। কারণ, আমরা স্বাধীন হয়েছি। একটি স্বাধীন দেশের ভাবমূর্তির জন্যে আমরাই দায়ি। এখানে অন্য কাউকে আর দোষ দেয়ার নেই। আমি মাথা নিচু করে থাকি। এ লজ্জা আমাদেরই।






