টেস্ট সিরিজে যারা প্রতি মুহূর্তে রীতিমত খাবি খেয়েছে, ওয়ানডে সিরিজের শুরুতে সেই শ্রীলঙ্কার ভিন্ন রূপটাও দেখল ভারত। খোলস পাল্টে বিধ্বংসী হয়ে ওঠা লঙ্কানদের কাছে ৭ উইকেটে উড়ে গেছে ভারতীয়রা। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল সফরকারীরা।
ধর্মশালার সবুজ পিচে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে কোহলিবিহীন ভারত। ধ্বংসাবশেষে দাঁড়িয়ে একাই লড়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। তার ৬৫ রানের বীরোচিত ইনিংস লজ্জার হাত থেকে বাঁচিয়েছে দলকে। অলআউট হওয়ার আগে ১১২ রান করে স্বাগতিকরা। ২০.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে টার্গেটে পৌঁছে যায় লঙ্কানরা।
মামুলি টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে প্রথমে বিপদে পড়েছিল শ্রীলঙ্কাও। দলীয় ৭ আর ব্যক্তিগত ১ রানেই বুমরাহ’র শিকার হন ধানুস্কা গুনাথিলাকা। দলীয় ১৯ রানে হিসাবের খাতা খোলার আগে ভুবনেশ্বরের বলে বোল্ড হন লাহিরু থিরিমান্নে।
তবে ৪৬ রানের জুটিতে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন অ্যাঞ্জোলো ম্যাথুজ ও উপুল থারাঙ্গা। বেশ আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট চালান থারাঙ্গা। ৪৬ বল মোকাবেলা করে ১০ চারে ৪৯ রান করেন তিনি। এক রানের আপেক্ষ নিয়ে হার্দিক পান্ডিয়ার বলে ধাওয়ানের হাতে ধরা পড়েন। বাকি কাজটুকু নিরাপদেই সেরেছেন ম্যাথুজ (২৫) ও ডিকেভেল্লা (২৬)।
এর আগে সর্বনিম্ন স্কোরের লজ্জা এড়ালেও ৩৪ বছরের পুরনো লজ্জায় ডুবতে হয়েছে ভারতকে। দলটি ওয়ানডেতে ২০ রানের কমে ৫ উইকেট হারিয়েছিল সেই ১৯৮৩ সালে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৭ রানে পাঁচজন ব্যাটসম্যান সেদিন আউট হয়েছিলেন। রোববার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬ রানেই ৫ উইকেট খোয়াল ভারত। একটা সময় ২৯ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ওয়ানডেতে সর্বনিম্ন স্কোরের লজ্জাতেই পড়তে যাচ্ছিল তারা।
নুয়ান প্রদীপ ও সুরাঙ্গা লাকমালের গতির সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করে ভারতের টপঅর্ডার। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ব্যাটিং। ধোনি লড়াই চালিয়ে ৬৫ রান করেন ৮৭ বল খেলে। আর কোনও ভারতীয় ব্যাটসম্যানই ক্রিজে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। দু’অঙ্কের রান করেছেন আর কেবল হার্দিক পান্ডিয়া (১০) ও কুলদীপ যাদব (১৯)।
সুরঙ্গা লাকমাল ১৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন দিনের সেরা।
ধর্মশালায় দিনের দ্বিতীয় ওভারেই শেখর ধাওয়ানকে (০) এলবিডব্লিউয়ে ফেরান অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে সিরিজে ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে (২) ফেরান লাকমাল।
নবম ওভারে লাকমালেরই শিকার দীনেশ কার্তিক (০)। ১৩তম ওভারে মানিষ পাণ্ডেকে (২) আউট করেন এই লঙ্কান পেসার। পরের ওভারে শ্রেয়াস আয়ারকে (৯) বোল্ড করেন নুয়ান প্রদীপ। তিনিই হার্দিককে ফেরান।
পরে ভুবনেশ্বরকে ফেরান লাকমাল। কুলদীপকে আউট করেন আকিলা ধনঞ্জয়া। আর জসপ্রীত বুমরাহকে ফিরিয়ে চাপ ধরে রাখেন সুচিত পাথিরানা। থিসারা পেরেরার বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে আউট হন শেষ ব্যাটসম্যান ধোনি।
একদিনের ক্রিকেট থেকে ছুটি নিয়েছেন বিরাট কোহলি। তার জায়গায় দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রোহিত শর্মা। এদিন টসে জিতে বোলিং নেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক থিসারা পেরেরা। কোহলির অনুপস্থিতিতে দলে সুযোগ পেয়েছেন শ্রেয়াস আইয়ার।
শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সিরিজের পরই সাউথ আফ্রিকায় দীর্ঘ সফরে যাবে ভারত। সেখানে সবুজ পিচে খেলতে হবে। তার আগে দেশের মাটিতেই বেহাল দশা বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইনআপের! শ্রীলঙ্কা তুলনায় প্রোটিয়াদের পেস ব্যাটারি তো আরও ভয়ঙ্কর। কোহলিদের তাই কঠিন সময়ই অপেক্ষা করছে।








