তিন টাকায় ডিম বিক্রি নিয়ে শুক্রবার সকালে রীতিমত লঙ্কাকাণ্ড ঘটে গেছে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টটিউট (কেআইবি) প্রাঙ্গণে। সৃষ্ট পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও আয়োজন সফল হয়েছে বলে দাবি করেছেন ডিম বিক্রির আয়োজক বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) সভাপতি মসিউর রহমান।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন: আমরা বিষয়টিকে ব্যর্থতা মনে করি না, বরং এটা আমাদের সফলতা। পরিস্থিতির কারণে আমরা ডিম বিক্রি বন্ধ করেছি। এতে প্রমাণ হয় জনগণ আমাদের আয়োজনে সাড়া দিয়েছে।
পরে এক ফেসবুক বার্তায় তিনি বলেন: ডিম দিবস উপলক্ষে আমরা সাধারণ মানুষকে একটি বার্তাই দিতে চেয়েছি। আর হা হলো- ডিম একটি পুষ্টিকর খাদ্য এবং সকলেরই ডিম খাওয়া উচিৎ। আমরা চেয়েছিলাম সাধারণ মানুষ বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষেরা যেন কম দামে পরিবারের জন্য ১ মাসের ডিম নিয়ে যেতে পারেন। সে জন্যই ৯০ হাজার ডিম দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
তবে নিজেদের আয়োজনের ত্রুটির কথা উল্লেখ না করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য তিনি জনসাধারণকে দায়ী করে বলেন, ‘কিন্তু বিশৃঙ্খলার কারণে সেটি (ডিম দেওয়া) আজ সম্ভব হয়নি।’
পরবর্তীতে আলোচনা সাপেক্ষে ‘হ্রাসকৃত মূল্যে’ ডিম বিক্রির ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন: আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে (কম দামে ডিম বিক্রি) বহাল আছি। পরবর্তীতে আলোচনা সাপেক্ষে কম দামে ডিম বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে।’
গত কয়েক দিন ধরে ব্যাপক প্রচারণার পর শুক্রবার সকালে ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে অসংখ্য মানুষ হাজির হয়েছিলেন তিন টাকায় ডিম কিনতে। মানুষের চাহিদার তুলনায় নগন্য সংখ্যক ডিম নিয়ে এ আয়োজন শুরুর না হতেই শেষে করতে বাধ্য হয় আয়োজকরা। ডিম না পেয়ে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করে ক্রেতারা।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় অসংখ্য মানুষের বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। বিশ্ব ডিম দিবস (১৩ অক্টোবর ) উপলক্ষে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এই আয়োজন করে।
ঘোষণা অনুযায়ী সকাল দশটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত ডিম বিক্রি করার কথা ছিল। যেখানে একজন ক্রেতাকে সর্বোচ্চ ৯০টি করে ডিম দেওয়ার কথা। সকাল ৬টা থেকেই ভিড় করতে থাকে ক্রেতারা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্রেতাদের এ লাইন খেজুর বাগান হয়ে বিজয় সরণী পার হয়ে গিয়েছিল।
ক্রেতাদের চাপে নির্ধারিত সময়ের আগেই আয়োজকরা ডিম বিক্রি শুরু করে। বিক্রি শুরু হওয়া মাত্রই ক্রেতাদের চাপে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বন্ধ করে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতারার বিক্ষোভ শুরু করেন। এক সময় ধাক্কাধাক্কি হুড়োহুড়ি শুরু করে অসংখ্য মানুষ। এক পর্যায়ে কিছু মানুষ মঞ্চের ওপর পড়লে মঞ্চের একটি অংশ ভেঙে যায়, ভেঙ্গে যায় কয়েক খাঁচি ডিমও।
অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে তেঁজগাও ডিভিশন থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রথমে বাঁশি এবং তাড়া দিয়ে লোকজন সরাতে চান পুলিশ সদস্যরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ লাঠি চার্জ করে। তবে ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে ধাক্কাধাক্কির কথা স্বীকার করলেও লাঠিচার্জের কথা অস্বীকার করেছে পুলিশ।
ছবি: জাকির সবুজ








