মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে আসিয়ান দেশগুলোর মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র মতবিরোধ। দেশটির রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনীর নির্বিচারে হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে মালয়েশিয়া। পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া ফিলিপাইন মালয়েশিয়ার সঙ্গে সহমত পোষণ করেছে।
সোমবার মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিফা আমান আসিয়ান চেয়ারম্যানের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, এই বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই এবং রোহিঙ্গাদের বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
আসিয়ানের চেয়ারম্যানের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তার বক্তব্য একপাক্ষিক এবং তথ্যর অভাব রয়েছে। রোহিঙ্গা নিধনের বিষয়ে শুরু থেকেই মালয়েশিয়া উদ্বেগ জানিয়েছে। কিন্তু আসিয়ান চেয়ারম্যানের বক্তব্যে তার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি।’ তিনি দাবি করেন, ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের বিষয়টি আসিয়ান এড়িয়ে গেছে। এর ফলে মালয়েশিয়া আসিয়ানের কোন সিদ্ধান্ত সমর্থন করবে না।
মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যে চালানো সহিংসতাকে শুধু রোহিঙ্গা নামে দেখলেই হবে না, এটি একটি মানবিক বিপর্যয়। তারা দেশহীন মুসলিম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে সহিংসতা ও নিধনের শিকার হচ্ছে। ২৫ আগস্ট চালানো সহিংসতার জের ধরে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার বেশি রোহিঙ্গাকে বাঙ্গালি বলে তাদেরকে পাশ্ববর্তী দেশ বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে মিয়ানমার সরকার।
মালেশিয়া উদ্বেগ প্রকাশ করে মিয়ানমার সরকারের প্রতি রাখাইন রাজ্যে চালানো নৃশংসতা বন্ধ এবং সংকটের মূল কারণ খুঁজে বের করতে পুনরায় আহ্বান জানিয়েছে। আসিয়ানে ইন্দোনেশিয়াসহ মুসলিম প্রধান দেশগুলোে মালয়েশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে মিয়ানমারের উপর চাপ দিতে ওআইসিভুক্তদেশ গুলোকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, মালয়েশিয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিপাইন। সোমবার সরকারের তরফে বলা হয়, রোহিঙ্গা নিধন প্রশ্নে আসিয়ান প্রধানের বক্তব্যে মালয়েশিয়া যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তা যুক্তিসঙ্গত। ম্যানিলায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মিয়ানমারের রাখাইনে চলমান রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের বিষয়ে আসিয়ান সবই জানে। কিন্তু সংস্থার বক্তব্যে জোরালো উদ্বেগ প্রকাশ পায়নি। যা মালয়েশিয়া যথার্থই অনুধাবন করতে পেরেছে।








