জীবনের এক রুঢ় বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে মিয়ানমার থেকে ভেসে আসা রোহিঙ্গারা। দু:স্বপ্নও যেখানে হার মানে। জীবন মানেই যেখানে একটু খাবার আর আশ্রয়ের চাহিদা। সঙ্গে তাদের প্রবলভাবে প্রয়োজন স্বাস্থ্যসেবা। আর এর পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের জন্য আরো বড় প্রয়োজন হয়ে দেখা দিয়েছে মানসিক শক্তি।
জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে ভেসে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গার জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। বিভিন্নভাবে সহায়তার হাত বাড়াচ্ছেন তারা। এতে হয়তো তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মিটবে, মিলবে খাবার বা বাসস্থান। কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য তাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হবে মানসিক শক্তির।
সেই প্রয়োজনের কথাই তুলে ধরছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। সর্বস্ব হারানো এই মানুষদের সান্তনা বা ত্রাণ দিয়ে হয়তো বেশি কিছু হবে না, তবে তাদের বেঁচে থাকার পাশাপাশি মানসিক শক্তিটুকু জিইয়ে রাখাটাও জরুরি বলেই মনে করছে ইউএনএইচসিআর।
জীবনে ঘটে যাওয়া রুঢ় বাস্তবতার ঘা হয়তো এখনও রোহিঙ্গা শিশুদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিদ্যমান। এর মাঝেও কোমলমতি রোহিঙ্গা শিশুরা বেঁচে থাকার আনন্দ খুঁজছে সবখানে। ইউএনএইচসিআর মনে করে, আমাদের দায়িত্ব এই শিশুদের একটা নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা দেওয়া।

জাতিসংঘের রিফিউজি প্রধান ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বাংলাদেশ ভ্রমণ শেষে তার অভিজ্ঞতাতেও বলেন এসব কথাই। এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, বাংলাদেশের মতো ছোট একটি দেশে ভেসে আসা এত এত শরণার্থীর ঢল এই প্রথমবারের মতো দেখলাম। এসব রোহিঙ্গারা প্রবল মানবিক সংকটে ভুগছেন। সেখানে যেমন আছে খাবারের সংকট তেমনই আছে বাসস্থানের সংকটও। স্বাস্থ্যসেবাও প্রয়োজনীয় তাদের জন্য।
পুরো ক্যারিয়ারে এমন কোনো পরিস্থিতি দেখেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবচেয়ে ভয়াবহ যে বিষয়টা নিয়ে তারা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ছুটে আসছে তা হলো মানসিক ট্রমা। এমন অনেক নারীকে দেখেছি যারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে, শিশুরা তাদের চোখের সামনে মা-বাবার হত্যা দেখেছে। কোন কোন শিশু তাদের পরিবার থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এসব শিশুদের কেউ কেউ মারা যাওয়ার ভয়ে পালিয়েছে আবার কেউ পালানোর সময়ে বর্ডারে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
সৌহার্দ্যের এই হাত আমাদের আরো অনেক সময় প্রসারিত রাখতে হবে বলেন তিনি। তাদের আরো অনেক সময় সহায়তা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের শরণার্থী প্রধান ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি।
এরই মধ্যে বাংলাদেশে ভেসে এসেছে পাঁচ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী। এর আগে গত শুক্রবার ইউনিসেফের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য ১৩০০ নতুন শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়।
এই শিশুশিক্ষা কেন্দ্র গুলোতে ৪-৬ বছরের শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান করা হবে। এবং ৬-১৪ বছরের ছেলে-মেয়েদের নন- ফরমাল শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। প্রত্যেক শিক্ষাকেন্দ্র প্রতি শিফটে ৩৫ জন করে তিন শিফটে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা হবে।
জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে অনেক অনেক শিশুও। এসবের মধ্যে প্রায় ৬০০০ শিশু এতিম। এসব শিশুদের জন্যও একটি নিরাপদ আশ্রয় তৈরির চেষ্টা করছে জাতিসংঘ। এছাড়াও ভেসে আসা রোহিঙ্গাদের তালিকায় রয়েছে অনেক অনেক প্রবীন। রয়েছে ধর্ষিতা নারী। তাদের সবার জন্যই প্রয়োজন মানসিক শক্তি।







