মিয়ানমারের চালানো নিধনযজ্ঞের পর উখিয়া ও টেকনাফের ৫ হাজার একর বনভূমি দখল করে পাহাড়ে ও পাহাড়ের পাদদেশে আশ্রয় নিয়েছিল ৭ লাখ রোহিঙ্গা। এর আগে থেকে বসবাসকারী আরো ৪ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাসহ ১২ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস উখিয়া-টেকনাফের বিপদসঙ্কুল এলাকায়। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে রোহিঙ্গাদের জনজীবনে নেমে এসেছে বিপর্যয়।
চ্যানেল আইয়ের প্রতিবেদনে জানা যায়, সম্প্রতি টানা ভারী বর্ষণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর অধিকাংশ পাহাড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় গত ৫ দিনে প্রায় অর্ধশত ছোট-বড় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৪ শতাধিক বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। মারা গেছে এক শিশুসহ ২জন। আহত হয়েছে আরও অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গা। চলতি বর্ষায় ৩৭২টি ছোট বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এরইমধ্যে ক্ষতির মুখে পড়েছে প্রায় ৩৩ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী।
এখন সামান্য বৃষ্টিতেই ভূমিধসের পাশাপাশি আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। টানা বৃষ্টি হলে নিয়মিতভাবে বন্যাও হবে। এখানে শরণার্থী ক্যাম্পগুলোর অবস্থান খুবই কাছাকাছি। জায়গার সঙ্কটের কারণে তাদের গাদাগাদি করে থাকতে হয়। ফলে একটি ছোট আকারের ভূমিধসেও বহু শরণার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই রেহিঙ্গাদের নিয়ে আমাদের আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে। প্রাণহানী এবং পাহাড় ধসের শঙ্কা নিয়ে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রাণালয়কে তৎপর হতে হবে। আমাদের সীমিত শক্তি নিয়ে পাহাড় ধস ও সম্ভাব্য প্রাণহানী ঠেকাতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া রোহিঙ্গাদের প্রাণহানী রুখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও উদ্যোগী হতে হবে। এর পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনেও সবাইকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।







