রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে নানা শঙ্কা ও সরকারের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক নমনীয়তার অভিযোগের বিপরীতে সুখবর হচ্ছে, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা- ইউএনএইচসিআরকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্ত করতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার। ২৬ আগস্ট ২০১৭ সালের পর থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করা রোহিঙ্গাদের নিয়ে নানা ধরণের প্রোপাগান্ডা চালিয়ে আসছে তারা। ‘রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের কেউ না’, ‘রোহিঙ্গারা বাঙালি’, এসব বলাসহ রাখাইনে কাউকে পরিদর্শন করতে বাধা দেয়া এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘসহ আন্তজার্তিক কারও সংশ্লিষ্টতা মানতে মিয়ানমার সরকার নারাজ ছিল প্রথম থেকেই। এসব কারণে রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফেরা নিয়ে নানা সন্দেহের অবকাশ হয়। এই অবস্থায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় ইউএনএইচসিআরের যুক্ত হবার বিষয়টি দেশের কূটনৈতিক সফলতার একটি মাইলফলক। ঢাকায় আসন্ন ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যু প্রাধান্য পাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘তাড়াহুড়ো না করে পুরো সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। দীর্ঘসময় এই বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। সেখানে তারা (মিয়ানমার) প্রথমে কোনো ডকুমেন্টে ইউএন বা ইউএনএইচসিআর লিখতে রাজিই ছিল না। তা আমরা আমাদের অংশে লিখেছিলাম। আমরা ইতিমধ্যে সম্পৃক্ত করেছি। এখন আশার কথা হচ্ছে, এটা একটা খুবই বড় ইতিবাচক উদ্যোগ বা পদক্ষেপ যে, মিয়ানমার সরকার এখন ইউএনএইচসিআরের সাথে যুক্ত হয়েছে। এটা জাতিসংঘ আমাদের নিশ্চিত করেছে। এই ইতিবাচক উদ্যোগগুলোর মধ্য দিয়ে আশা করি সমস্যাগুলোর সমাধান হবে।’ সম্পদের নানা সীমাবদ্ধতা ও নানা নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে শুধুমাত্র মানবিক কারণে ও একটি বন্ধুসুলভ প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। বিভিন্ন বন্ধুরাষ্ট্র ও আন্তজার্তিক সংস্থা পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এই সমস্যা সমাধানে। বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি তারা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ফোরাম ও নেটওয়ার্কে চাপ দিয়ে আসছে মিয়ানমারকে, যার ইতিবাচক ফল আসতে শুরু করেছে বলে আমরা মনে করি। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি ধীরে ধীরে একটি দৃশ্যমান সফলতায় রূপ পাক, এই আমাদের প্রত্যাশা।








