আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাধ্যমে ইরান মিয়ানমারের উপর চাপ অব্যহত রেখেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভায়েজি। তিনি বলেন: মিয়ানমার যেন তাদের জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের প্রতি বর্বর আচরণ বদলাতে বাধ্য হয় সেজন্য ওআইসির মাধ্যমে ইরান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়া জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আসা ৬ লাখ রোহিঙ্গার জন্য ক্যাম্পগুলোতে ইরান ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল পরিচালনা করবে বলেও তিনি জানান।
রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমীতে একটি নাট্যেৎসবে বিশেষ অতিথি হিসেব যোগ দিতে এসে তিনি চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ইরানের ভূমিকা ও ইরানের দ্বিপাক্ষিক সাংস্কৃতিক বিনিময় ভাবনা প্রসঙ্গে কথা বলেন ড. আব্বাস ভায়েজি।
ইরানের এই রাষ্ট্রদূত বলেন: রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই ইরান বাংলাদেশের এবং রোহিঙ্গাদের পাশে রয়েছে। বর্তমানেও পাশে আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। এখন পর্যন্ত ইরানের তিনটি কার্গো বিমান ত্রাণ নিয়ে এসেছে। আরও আসবে।
তিনি বলেন: এই মুহূর্তে আমাদের মূল চিন্তা শরণার্থী শিবিরে ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল সুবিধা দেওয়া। যাতে রোগ মহামারীর আকারে ছড়িয়ে পড়তে না পারে। এছাড়া রোহিঙ্গাদের সহায়তায় এবং তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরাতে বাংলাদেশের সব চেষ্টায় ইরানের সমর্থন রয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে আরব লীগ বা ওইসিকে সক্রিয় করা বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন: আমাদের প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘে অনেক দেশের সামনে এ বিষয়ে ইতোমধ্যে বলেছেন। পাশাপাশি মূলত ওআইসির মাধ্যমে আমরা মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের প্রতি নির্মম আচরণ বন্ধ করতে বাধ্য করার চেষ্টা চালাচ্ছি।
বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বিনিময় প্রসঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন: এ ধরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যেকোন দেশকেই মুগ্ধ করবে। একটি দেশের সাংস্কৃতিক গভীরতার পরিমাপ তুলে ধরে এমন অনুষ্ঠান। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নৈকট্য তৈরীতে এ ধরণের অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক।
ড. আব্বাস ভায়েজি বলেন: এমন অনুষ্ঠান অনেক দেশকে বুঝতে শেখাবে অস্থিরতা বা যুদ্ধ নয়, শান্তি হল মানবতার সবচেয়ে বড় অনুঘটক।







