রিয়াল মাদ্রিদে থাকতে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের অনেক স্বপ্ন ধুলায় মিশিয়েছেন। স্পেন ছেড়ে ইতালিতে পাড়ি জমানোর পর স্পেনের মাটিতে অ্যাটলেটিকোর কাছে ০-২ ব্যবধানে জুভেন্টাসের হারের ধাক্কায় গ্যালারি থেকে মিক্সজোন, বিদ্রুপের মুখে পড়েছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
সেই বিদ্রুপ সিআর সেভেনকে এতটাই চটিয়ে দিয়েছিল যে, হাতের পাঁচ আঙুল দেখিয়ে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের ইঙ্গিত দেখিয়ে সেদিন মিক্সজোন ছেড়েছিলেন।
‘ডু-অর-ডাই’ পরিস্থিতিতে রোনালদোকেই দরকার ছিল জুভদের। প্রথম লেগের ০-২তে হার কাটিয়ে উঠতে হত তাদের। উল্টো দিকে, নিজেকে প্রমাণের জন্য এ রকম বড় মঞ্চ তো বেশি পেতেন না রোনালদোও।
গত পাঁচ বছরে চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে। প্রশ্ন ছিল, ডিয়েগো সিমিওনের দলের কড়া ডিফেন্স তছনছ করে তুরিনের সাদা-কালো জার্সিকে কি রোনালদো পৌঁছে দিতে পারবেন শেষ আটে?
পর্তুগিজ তারকা নিজে বিশ্বাস রেখেছিলেন। ম্যাচের আগেরদিন সতীর্থ ও জুভ সমর্থকদের বলেছিলেন, ‘চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এই রাতগুলোই দুর্দান্ত। একটা দারুণ ম্যাচ খেলার জন্য আমাদের দল আত্মবিশ্বাসী। আমি নিজেও। আমি সমর্থকদের বলব, ইতিবাচক ভাবুন। বিশ্বাস রাখুন। কামব্যাকের জন্য তৈরি থাকুন।’
তার আরো মন্তব্য ছিল, ‘আমরা প্রথম লেগে ০-২তে হেরে যাব ভাবিনি। কিন্তু এবার যেকোনো ফল হতে পারে। ঘরের মাঠে, আমাদের সমর্থকদের সামনে আমরা দারুণ জবাব দিতে তৈরি।’
ম্যাচে নিজের কথা মতো সুচারুভাবেই কাজগুলো করেছেন রোনালদো।
২১ ফেব্রুয়ারি-থেকে ১৩ মার্চ। এই কয়টা দিনের ব্যবধানে রোনালদো প্রমাণ করেছেন যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আসলে তারই। পর্তুগিজ তারকার হ্যাটট্রিকে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আটে উঠে গেছে জুভেন্টাস।
প্রথম লেগে ২-০ গোলে হারার পর কোয়ার্টারে যেতে দ্বিতীয় লেগ অন্তত তিন গোলের ব্যবধানে জিততে হত জুভদের। ঠিক যেন নিক্তি দিয়ে মেপে সেটা পূরণ করেছে তুরিনের বুড়িরা। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে জিতে পরের রাউন্ডে ইতালিয়ান জায়ান্টরা।
তুরিনে দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর এক মিনিট বাকি। মাঠে নামার আগে টানেলে শুরু রোনালদোর ছটফটানি। তখনও দুই লেগ মিলিয়ে সমতায় ফিরতে চাই এক গোল। নিজে লাফাচ্ছেন, সঙ্গে দলের প্রত্যেকের কাছে গিয়ে কপালে কপাল ঠুকে প্রেরণা যোগাচ্ছেন। শেষটায় রেফারিকেই সতীর্থ ভেবে ভুল করে গোল চাই বলে গর্জন! এ যেন ক্ষুধার্ত সিংহ।
রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে পিছিয়ে থেকে এমন অনেক ম্যাচ একার কাঁধে বের করেছেন। এবারও করলেন, পার্থক্য শুধুই আলাদা জার্সি, আলাদা শহর। দিনের শেষে রোনালদোর হ্যাটট্রিকে (২৭, ৪৯, ৮৬মিনিটে গোল) দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে অ্যাটলেটিকোকে বিধ্বস্ত করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টারে জুভেন্টাস।
প্রথম মিনিট থেকে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ঝাপালেও অ্যাটলেটিকোর রক্ষণে খুব একটা সুবিধা করতে পারছিল না জুভেন্টাস। একবার বল জালে জড়ালেও ফাউলের কারণে বাতিল হয়ে যায় গোল। তবে ২৭ মিনিটে স্বাগতিকদের গোল এনে দেন রোনালদো। ফেদেরিকো বেরনারদেস্কির ক্রস ছোট বক্সের ভেতর থেকে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী।
ওই গোলের লিড নিয়েই প্রথমার্ধ শেষ করে স্বাগতিকরা। যদিও বিরতি থেকে ফিরেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে জুভেন্টাস। আবারও গোলদাতা সেই রোনালদো। ৪৯ মিনিটে জোয়াও কানসেলোর ক্রস থেকে হেডে করেন লক্ষ্যভেদ। পর্তুগিজ উইঙ্গারের হেড অ্যাটলেটিকো গোলরক্ষক ইয়ান ও’ব্লাক প্রতিহত করলেও বল পেরিয়ে গিয়েছিল দাগ। গোললাইন প্রযুক্তিতে ব্যবধান ২-০ করে জুভেন্টাস।
২ গোলে এগিয়ে গেলেও কোয়ার্টার ফাইনাল তখনো অনিশ্চিত ইতালিয়ান ক্লাবটির। অ্যাটলেটিকোর জন্যও একই অবস্থা। দুই লেগ মিলিয়ে স্কোর লাইন তখন ২-২। ওই অবস্থাতেই ম্যাচ শেষ হতে যাচ্ছিল। তবে দলে রোনালদোর মতো খেলোয়াড় থাকতে তা হতে দেবেন কেন! সঙ্গে ভাগ্যও সঙ্গী হয় স্বাগতিকদের। তাই তো ৮৭ মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি থেকে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণের সঙ্গে জুভেন্টাসের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেন রিয়ালের সাবেক রাজা।
এদিনের হ্যাটট্রিকের ফলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আটটি হ্যাটট্রিক হল তার। একইসঙ্গে ক্যারিয়ারের ৫২তম। শুধু তাই নয়, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিরুদ্ধে সব টুর্নামেন্ট মিলিয়ে ৩৩ ম্যাচে ২৫ গোল হল সিআর সেভেনের।
ম্যানসিটির গোল উৎসব
রাতের অন্য ম্যাচে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে গোল উৎসব করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। আক্ষরিক অর্থেই তারা উড়িয়ে দিয়েছে শালকে জিরো ফোরকে। শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে জার্মান ক্লাবকে তারা হারিয়েছে ৭-০ গোলে। তাতে দুই লেগ মিলিয়ে ১০-২ গোলে এগিয়ে শেষ আটে উঠেছে পেপ গার্দিওলার দল। শালকের মাঠের প্রথম লেগ ম্যানসিটি জিতে ফিরেছিল ৩-২ গোলে।
গোল উৎসবে স্কোরশিটে নাম তুলেছেন ম্যানসিটির ছয় খেলোয়াড়। সার্জিও আগুয়েরো করেছেন জোড়া গোল, একটি করে গোল করেন লেরয় সানে, রাহিম স্টালিং, বেনার্দো সিলভা, ফিল ফোডেন ও গাব্রিয়েল জেসাস।








