চার বছর আগে ব্রাজিল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল পর্তুগাল। সেই দলই দুই বছর বাদে ইউরো জিতে দেখালো চমক। ট্রফি কেসে যা ছিল দেশটির প্রথম বৈশ্বিক কোন শিরোপাও। কেমন করে এমন সাফল্য? বিশ্বকাপেই বা কেমন করবে তারা? পর্তুগাল কোচ ফার্নান্দো সান্তোসের সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে সেসব কথা, সঙ্গে থাকল রোনালদো বন্দনা।
আপনার দল ঘোষণায় বেশ চমক ছিল। বড় কিছু নামকে বিশ্বকাপে সুযোগ দিলেন না…
সান্তোস: আমি আমার দলকে মেধা আর বর্তমান ফর্মের ভিত্তিতে সাজিয়েছি। এটা সত্যি যে দলে বড় কিছু নাম নেই। কিন্তু আমাকে সিদ্ধান্ত নিতেই হত। ২৩ জনের দল সাজানো সহজ কোনো কাজ নয়।
২০১৬ ইউরোজয়ী ১০ খেলোয়াড় এবারের বিশ্বকাপ দলে নেই। কীভাবে এর ব্যাখ্যা দেবেন?
সান্তোস: সত্যি বলছি, এটা অনেক কষ্ট দেয়। ব্যক্তিগতভাবে, ইউরোজয়ী প্রত্যেকটা খেলোয়াড়কে আমি অনেক ভালোবাসি। তারা আমাদের ইউরো জিততে অনেক সাহায্য করেছে। ঠিক একইভাবে যারা আমাদের বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব পেরিয়ে রাশিয়ায় খেলতে সাহায্য করেছে আমি মনে করি বিশ্বকাপে খেলার অধিকার তারই বেশি।
তার মানে আপনি বলছেন বিশ্বকাপ দলটা ইউরোজয়ী দলের থেকেও বেশি শক্তিশালী?
সান্তোস: বিষয়টা মোটেও এমন না। আমার দায়িত্ব হলো পর্তুগালের জন্য সেরা দলকে বাছাই করা, আর আমি সেটা করেছি। আমার নিজের কাছেও কষ্ট লাগে যখন ন্যানির মতো একজন মানসম্পন্ন খেলোয়াড়কে আমরা দলে রাখতে পারি না। কিংবা এডেরের মতো খেলোয়াড়, যার গোল আমাদের ইউরোপ মহাদেশের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত শিরোপা জিতিয়েছিল তাকেও দলে রাখতে পারিনি। আমি যেটা বলবো সেটা হল, হ্যাঁ আমি একটা দল বাছাই করেছি। আর এই দলটাকে নিয়ে আমার অনেক আত্মবিশ্বাস। ২০১৬ ইউরোতেও আমার একই রকম আত্মবিশ্বাস ছিল, এখনো আছে।
ব্রুনো আলভেস ও পেপে ছিলেন ইউরোতে আপনার অন্যতম অস্ত্র। কিন্তু এখন তাদের বয়স চলছে ৩৬ ও ৩৫। এত বয়সে ভালো পারফর্ম করা কঠিন হয়ে যাবে না তো!
সান্তোস: এমন শঙ্কা থাকলে তো ওদের আমি দলেই নিতাম না। তাদের বয়স হয়েছে ঠিক আছে। কিন্তু তারা কিন্তু তাদের সেরা ফর্মেই আছে। শুধু তারাই নয়, মাঝমাঠ আর আক্রমণের দায়িত্বে আছে যারা তাদের বয়সও কিন্তু ৩০ পার। জোয়াও মরিনহোর বয়স ৩১ আর আমাদের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বয়স ৩৩। সবাই তাদের সেরা অবস্থানে আছে। আর এই কারণেই তারা বিশ্বকাপে তাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
রোনালদোর কথা বলছেন। বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়কে আপনার দলে পাওয়ায় আপনার অনুভূতি কী?
সান্তোস: তাকে( রোনালদো) দলে পাওয়ায় আমাদের কাজটা অনেক সহজ হয়ে গেছে। আমি জানি, পরিস্থিতি যখন খুব কঠিন হয়ে যায় তখন সে একটা না একটা জাদুকরী কিছু করবেই। ক্রিস্টিয়ানোর মতো একজন ফুটবলারকে দলে পাওয়া এক মস্ত সুবিধা। সে সবার জন্য অনুপ্রেরণা। তার অর্জনকে ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। সত্যি, তার অর্জন অবিশ্বাস্য। সে যেভাবে তার সতীর্থদের অনুপ্রেরণা যোগায় না দেখলে বিশ্বাস করতে পারবেন না। ক্রিস্টিয়ানো একজন সত্যিকারের নেতা ও জন্মগতভাবে একজন চ্যাম্পিয়ন।
তাহলে আমরা ধরে নিতে পারি যে পর্তুগাল এবার দারুণ খেলবে?
সান্তোস: খেলার ফলাফল নির্ধারণ হয় মাঠে, কাগজে নয়। আমরা এক কঠিন গ্রুপে পড়েছি যেখানে আমাদের প্রতিপক্ষ স্পেনের মতো দল। আমাদের বিশ্বকাপ শুরু করতে হবে এমন এক দলের বিপক্ষে খেলে যারা বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা দল। হুলেন লোপেত্তেগির কোচিংয়ে স্পেন এখন পর্যন্ত কোন ম্যাচ হারেনি। আমাদের কাজটা খুব কঠিন হয়ে যাবে।







