মঙ্গলবারের রাত যদি রোনালদোর হয়, বুধবার রাতটা ছিল মেসির। প্রায় একদশক স্পেনের মাটিতে লড়াইয়ের পর এখন হাজার মাইল দূরত্বে দুজন। কিন্তু লড়াই থামেনি। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে যা আবারও স্পষ্ট।
মঙ্গলবার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে জুভেন্টাস। প্রথম লেগে দুই গোলে পিছিয়ে থেকে পরের লেগ ৩-০তে জিতে কোয়ার্টারে ওঠে জুভরা। পরেরদিন মেসি যা করলেন তাও এক গল্প। জোড়া গোলের সঙ্গে জোড়া অ্যাসিস্ট বার্সা সুপারস্টারের।
কল্পবিজ্ঞান সিনেমা ‘দ্য ম্যাট্রিক্সের’ নায়ক এতদ্রুত মুভ করতেন যে আশপাশের সবকিছু চলত আলট্রা স্লো মোশনে। লিওঁ ম্যাচের আগেরদিন মেসিকে সেই ‘দ্য ম্যাট্রিক্সে’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন বার্সেলোনার সাবেক কোচ লুইস এনরিকে।
এনরিকের মন্তব্য ছিল এমন, ‘আমরা কথা বলছি একজন জিনিয়াসের ব্যাপারে। আমরা কথা বলছি ম্যাট্রিক্সকে নিয়ে। যেখানে আশপাশের সব ছবি স্লো হয়ে যায়। কিন্তু মেসি ওই সময়ে যা চায়, সেটাই করতে পারে।’
লিওঁনের বিপক্ষে ম্যাচেও মেসিকে দেখা এনরিকের কথা রকমেই। যেখানে শুধু নিজে গোল করার নয়। তিনি যে গোল করাতেও আনন্দ পান দুই গোলের সঙ্গে দুটি অ্যাসিস্টে সেটার প্রমাণ রাখেন। যার ফলে ফরাসি ক্লাবকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে শেষ আট নিশ্চিত করে কাতালানরা। প্রতি ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের একটা নম্বর বণ্টন করে ইএসপিএন এফসি। সেখানেও লিওঁ ম্যাচে ১০ মধ্যে ১০ পেয়েছেন মেসি।
রোনালদোর হ্যাটট্রিক নিয়ে মুগ্ধ তার প্রতিদ্বন্দ্বী মেসিও। লিওঁর বিপক্ষে জেতার পর মেসি বলেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং জুভেন্টাস যা করেছে সেটা ইমপ্রেসিভ। আমার ধারণা ছিল অ্যাটলেটিকো আরও বেশি কঠিন হবে। তিন গোলের সঙ্গে রোনালদোর একটি জাদুকরী রাত ছিল।’
নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে রোনালদোকে চ্যালেঞ্জটা দিয়ে রেখেছেন মেসি। তারপর বলছেন, পরের রাউন্ডে রোনালদোর জুভেন্টাসের মুখোমুখি হওয়া নিয়ে কোনো চিন্তা নেই তার এবং সতীর্থদের।
মেসি জানান, ‘সব প্রতিপক্ষই কঠিন। উদাহরণ হিসেবে আয়াক্সকে দেখুন। তরুণ একটা দল, যারা কাউকেই ভয় পায় না। সুতরাং সামনে যেই আসুক কঠিন হবে। কঠিন চ্যালেঞ্জের জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’
দুদলই এখন কোয়ার্টার ফাইনালে চলে গেছে। এই রাউন্ড বা সেমিফাইনালে তাদের দেখা না হলেও যদি তারা ফাইনালে উঠে তাহলে ১ জুন মাদ্রিদের ফাইনালে আরও একবার দেখা হবে দুই মহাতারকার।







