টি-টুয়েন্টিতে তাণ্ডব চালানো ব্যাটিং প্রদর্শনীর পর সাকিব আল হাসানের স্পিন ভেল্কি। তাতে স্রেফ উড়ে গেল আয়ারল্যান্ড। সফরকারীদের ৭৭ রানে হারিয়ে এক ম্যাচ আগেই তিন টি-টুয়েন্টির সিরিজ নিশ্চিত করল বাংলাদেশ। অপেক্ষা এবার হোয়াইটওয়াশের।
চট্টগ্রামে বৃষ্টির কারণে ম্যাচ নেমে আসে ১৭ ওভারে। তারপরও দুইশ ছাড়ায় বাংলাদেশ, ৩ উইকেটে করে ২০২ রান। দুইশ পেরোনো রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় নেমে আয়ারল্যান্ড করেছে ৯ উইকেটে ১২৫ রান।
২০২১ সালের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাপুয়া নিউগিনিকে ৮৪ রানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেটি ছোট ফরম্যাটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের ব্যবধানে জয়। সেই রেকর্ড নতুন করে লেখা না হলেও বন্দরনগরীতে এদিন হালিখানেক রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ।
চট্টগ্রামের অতিথি বোলারদের পর ব্যাটারদের উপরও তাণ্ডব চালায় বাংলাদেশ। আইরিশ ব্যাটারদের নাস্তানাবুদে নেতৃত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তুলে নিয়েছেন ৫ উইকেট। সঙ্গে উঠে গেছেন আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে উইকেট শিকারিদের তালিকার শীর্ষে।
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ৪ ওভার বল করে ২২ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন সাকিব। ১১৪ টি-টুয়েন্টিতে তার উইকেটসংখ্যা দাঁড়ালো ১৩৬টি। ১৩৪ উইকেট নিয়ে শীর্ষে ছিলেন টিম সাউদি। নিউজিল্যান্ড জার্সিতে তিনি খেলেছেন ১০৭ ম্যাচ।
রানতাড়ায় নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। অধিনায়ক স্টার্লিংকে ফেরান তাসকিন। এরপর টানা ৫ উইকেট নেন সাকিব। তাসকিনের উইকেট শেষপর্যন্ত ৩টি। এক উইকেট নিয়েছেন হাসান।
কার্টিস ক্যাম্ফের ৩০ বলে সর্বোচ্চ ৫০ রান করেছেন। হ্যারি টেক্টর ২২ ও গ্রাহাম হিউমের অপরাজিত ২০ ছাড়া দুঅঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি আর কোন আইরিশ।
বুধবার সিরিজের দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টি শুরুর পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বৃষ্টি। শেষ পর্যন্ত খেলা মাঠে গড়ালে ১৭ ওভার নির্ধারিত হয়। টস হেরে ব্যাটে নেমে আইরিশ বোলারদের নাস্তানাবুদ করেন দুই ওপেনার লিটন কুমার দাস ও রনি তালুকদার। মাত্র ৩.১ ওভারে ফিফটি পূর্ণ করে বাংলাদেশ। ৭.১ ওভারে ১০০ রানে পৌঁছায় স্বাগতিকরা।
আয়ারল্যান্ড বোলারদের তুলোধুনো করে টি-টুয়েন্টিতে বাংলাদেশের দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়া লিটন সেঞ্চুরির সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। তবে ওপেনিং জুটিতে বাংলাদেশ গড়েছে নতুন রেকর্ড। রনি তালুকদারকে নিয়ে লিটন ঝড় তোলেন শুরুতেই।
১৮ বলে ব্যক্তিগত পঞ্চাশে পৌঁছান লিটন। ২০০৭ সালে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০ বলে ফিফটি করেছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। ১৬ বছর পর সেই রেকর্ড ভাঙলেন ক্ল্যাসিক এ ব্যাটার। ৪১ বলে ১০টি চার ও ৩টি ছয়ে ৮৩ রান করে আউট হন হোয়াইটের বলে।
টি-টুয়েন্টিতে যেকোনো উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ১৩২ রানের জুটি ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০১২ সালে ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ রানের জুটিটি গড়েছিলেন তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সেটির কাছে গিয়ে লিটনকে রেখে রনি সাজঘরে ফেরেন। ২৩ বলে ৪৪ রান করে যান আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়।
তার আগে ছোট ফরম্যাটে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটির রেকর্ড গড়েছেন দুজনে। টি-টুয়েন্টিতে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নাঈম শেখ ও সৌম্য সরকারের ১০২ রানের ওপেনিং জুটির রেকর্ড ভেঙেছেন লিটন ও রনি। এদিন ১২৪ রানের ওপেনিং জুটি গড়েছেন তারা।
পাওয়ার প্লের ৫ ওভাবে কোন উইকেট না হারিয়ে ৭৩ রান তুলে ফেলেছিলেন লিটন ও রনি। তৌহিদ হৃদয় ১৩ বলে ২৪ রান করেন। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ২৪ বলে ৩৮ রানে অপরাজিত থাকেন।








