‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’ -কথাটা বোধহয় সবসময় প্রযোজ্য নয়। সব সকালই যে দিনের সঠিক পূর্বাভাস দিতে পারে না, তারই অনন্য নজির যেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে। মিরপুরে ২৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়েও রেকর্ড জুটিতে (২৬৬) স্বাগতিকরা নিজেদের করে নিয়েছে ঢাকা টেস্টের প্রথম দিন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ-৩০৩/৫ (প্রথম দিন শেষে)
ডাবল সেঞ্চুরির আশা জাগানো মুমিনুল হক সাজঘরে ফেরেন ১৬১ রানের ইনিংস খেলে। পড়ন্ত বিকেলে আক্ষেপ হয়ে থাকল এ বাঁহাতির উইকেট বিসর্জন। পরে নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা তাইজুল ইসলামও (৪) দিনের এক ওভার আগে আউট হয়েছেন। তবে মুশফিকুর রহিমের ১১১ রানে অপরাজিত থাকা আশা দেখাচ্ছে বড় সংগ্রহের।
মুমিনুলের সপ্তম ও মুশফিকের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি উদযাপনের দিনে চতুর্থ উইকেট জুটিতে বাংলাদেশ গড়েছে নিজেদের নতুন রেকর্ড। দুজনে যোগ করেছেন ২৬৬ রান। যেকোনো উইকেটে জুটির তালিকায় যেটি উঠে এসেছে চতুর্থ স্থানে।
চতুর্থ উইকেট জুটিতে টাইগারদের আগের সর্বোচ্চ রান ছিল ১৮০। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে মুমিনুল ও লিটন দাস মিলে করেছিলেন সেটি।

এদিন ২৪৭ বল খেলে ১৯টি চারে মুমিনুল সাজান ১৬১ রানের ইনিংস। ২৩১ বলে ৯টি চারে মুশফিক সাজান তার অপরাজিত ইনিংসটি।
হেমন্তের রৌদ্রোজ্জ্বল সকালে উইকেটের পেছনে তিন স্লিপ, গালিতে এক ফিল্ডার নিয়ে নতুন বলে আক্রমণে যান জিম্বাবুয়ে পেসার কাইল জারভিস ও তেন্ডাই চাতারা। ইমরুল কায়েসকে (০) উইকেটরক্ষক রাগিস চাকাভার ক্যাচ বানিয়ে প্রথম আঘাত হানেন জারভিস। বাংলাদেশের রান তখন ১৩।
দ্বিতীয় শিকারের দেখা পেতে অপেক্ষা করতে হয়নি জিম্বাবুয়ে পেসারের। দলীয় ১৬ রানের মাথায় জারভিসের পরের ওভারে শর্ট মিড উইকেটে ক্যাচ দেন লিটন দাস। ৩৫ বল খেলে এ ডানহাতি করেন ৯ রান। দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়লে উইকেটে আসেন মোহাম্মদ মিঠুন।

অভিষেক টেস্টে রানের খাতা খোলার আগেই ফেরেন সাজঘরে। সফরকারীদের তৃতীয় পেসার ডোনাল্ড ত্রিপানোর বলে ক্যাচ তুলে দেন ব্রেন্ডন টেলরের হাতে।
পরের সময়টা কেবলই মুমিনুল-মুশফিকের। বুক চিতিয়ে ব্যাটিং করে বাংলাদেশকে উপহার দিয়েছেন অসাধারণ একটি দিন। পড়ন্ত বিকেলে মুমিনুলের উইকেটটি নেন চাতারা আর তাইজুলকে ফেরান জারভিস। বোলিংয়ে দারুণ শুরু ও শেষ বেলায় দুটি উইকেট তোলাই প্রথম দিনে জিম্বাবুয়ের প্রাপ্তি।







