বাংলাদেশের ঐতিহ্যমণ্ডিত ‘ইলিশ মাছ’ বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। স্বাদে ও ঘ্রাণে অনন্য বাংলাদেশের ইলিশের খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। ২০১৬ সালের ১৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিকভাবে ইলিশের একক মালিকানা পাওয়ার লক্ষ্যে জিআই নিবন্ধনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করে মৎস্য অধিদপ্তর। ওই আবেদনের পর তা পরীক্ষা-যাচাইয়ের পরে এ বছরের ১ জুন গেজেট প্রকাশ করা হয়। স্বস্ত আইন অনুসারে, আবেদন করা পণ্য বা সেবার উপরে কারো কোনো আপত্তি বা দাবি থাকলে গেজেট প্রকাশিত হওয়ার দুই মাসের মধ্যে তা জানাতে হয়। ইলিশ একইসঙ্গে ভারত ও মিয়ানমারে পাওয়া যাওয়ার কারণে আশঙ্কা ছিলো তারাও হয়তো দাবি নয়তো আপত্তি তুলবে। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে কেউ আবেদন/আপত্তি না করাতে ইলিশের স্বত্ব এখন শুধুই বাংলাদেশের। বিষয়টি নি:সন্দেহে আনন্দের, জামদানির স্বত্ব লাভের পরে ইলিশ এখন আমাদের একান্তই নিজস্ব খাদ্যপণ্য। চলতি মাসেই ইলিশের জিআই নিবন্ধনের সনদ আনুষ্ঠানিকভাবে মৎস্য অধিদপ্তরের হাতে এসে পৌঁছাবে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাটকা মাছ শিকার নিষিদ্ধ ও নির্দিষ্ট সময় ধরে ইলিশ শিকারের বাধ্যবাধকতা দেওয়াতে দেশে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে। বিদেশে রপ্তানি করেও প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে। আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতি পাওয়ায় ইলিশ বিপণনের ক্ষেত্রে স্বত্ব দিতে হবে বাংলাদেশকে। এর ফলে বর্তমান বাজার দরের চেয়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি দাম পাবেন জেলে ও ইলিশ রপ্তানিকারকরা। স্বত্ব লাভের এই সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে দেশের প্রান্তিক জেলেদের সামর্থ্য ও জীবন মানের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে দেশের ইলিশের আবাসস্থল নদীর স্বাভাবিক নাব্যতা নিশ্চিত করতে হবে, দূষণও রোধ করতে হবে। তাহলেই ফিরে আসবে রূপালি ইলিশের হারানো গৌরব। আন্তর্জাতিকভাবে প্রাপ্ত এই অর্জনের জন্য আবেদন ও স্বত্ব দাবির প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আমরা সাধুবাদ জানাই।







