রূপার তৈরি গয়নার সৌন্দর্যই ভিন্নরকম। রূপার চেয়ে অনেক দামি স্বর্ণের গয়নাতেও যেনো সেই ‘ভিন্ন’ সৌন্দর্যটা পাওয়া যায় না। কেননা রূপার আছে এক ধরণের কোমল উজ্জ্বলতা, গয়না তৈরিতে যা আরো উজ্জ্বল হয়ে ফুটে ওঠে।
তবে রূপা ততোক্ষণই ভালো লাগে যতোক্ষণ তা চকচকে থাকে। বার বার ব্যবহারে খুব অল্প সময়েই এই ধাতুর গয়না লালচে এবং পরে কালচে হয়ে যায়। তাই এগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা খুব জরুরি।
চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক কীভাবে আপনার রূপার গয়না পরিষ্কার করবেন এবং যত্ন নেবেন।
লবণপানি আর অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল
একটি বাটিতে পরিমাণমতো গরম পানি নিন। পানি ততোটুকুই নিন যতোটুকুতে আপনার গয়না পুরোপুরি ডুবে থাকবে। একসঙ্গে বেশি গয়না ধুতে চাইলে সে অনুযায়ী বেশি পানি নিতে হবে।
এবার গরম পানিতে লবণ মেশান। এক কাপ পানিতে এক টেবিল চামচ – এই হিসেবে লবণ নিতে হবে। লবণ পানিতে পুরোপুরি মিশে যাওয়া পর্যন্ত নাড়তে থাকুন।
লবণ মিশে গেলে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের কয়েক টুকরো ছিঁড়ে তাতে ফেলে দিন। মিশ্রণে আপনার রূপার গয়না মিনিট পাঁচেক ডুবিয়ে রাখুন। এরপর হালকা নাড়ুন গয়নাগুলো। দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই রূপার ওপরের লাল বা কালচে স্তর দূর হয়ে নতুনের মতো চকচক করছে।
গয়না মিশ্রণ থেকে তুলে কল ছেড়ে ঠাণ্ডা পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার নরম কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। প্রয়োজনে পরপর দু’তিনবার পদ্ধতিটি প্রয়োগ করুন।
সাবধানতা: রূপার গয়নায় পাথর থাকলেও এ মিশ্রণে তার কোনো ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। তবে গয়নাটি বা তাতে বসানো পাথর যদি খুব বেশি দামি হয় তবে যতোটা সম্ভব সাবধানে এ পদ্ধতি ব্যবহার করুন। আর সম্ভব হলে রূপোর দোকানে নিয়েই পরিষ্কার করান।
সিলভার পলিশ
কখনো কখনো অতিরিক্ত ব্যবহার বা দু’একবার ব্যবহার করে খোলা অবস্থায় বহুদিন ফেলে রাখলে রূপার গয়নার ওপর বাতাসের সালফারের বিক্রিয়ায় সিলভার সালফাইডের পুরু কালো প্রলেপ পড়ে যায়। বেশি পুরু হওয়ায় ওপরের লবণপানি প্রক্রিয়া ব্যবহারে সেগুলো পুরোপুরি সাফ না-ও হতে পারে।
এমন অবস্থায় সিলভার পলিশ ব্যবহার করে আপনার রূপার গয়নাগুলো নতুনের মতো করে তুলতে পারেন। রূপার গয়না পলিশ করার জন্য এটি সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। এমনকি অ্যান্টিক গয়নার ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার করতে পারেন।
সিলভার পলিশের সঙ্গে ছোট একটি স্পঞ্জ থাকে। স্পঞ্জটি ভিজিয়ে নিয়ে তাতে সামান্য পরিমাণে পলিশ নিন। এরপর সেটি দিয়ে গয়নাটি সামনে-পেছনে সোজা ঘষুন। ঘষা হলে কল ছেড়ে ঠাণ্ডা পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিন, যেনো এক বিন্দু পলিশও কোথাও লেগে না থাকে। পরিষ্কার নরম কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন।
সাবধানতা: আঁকাবাঁকা বা গোলাকারে ঘষবেন না। এতে গয়নার গায়ে আঁচড় পড়তে পারে। যে কোনো ওষুধ বা কেমিকেলের দোকান থেকে না কিনে গয়নার দোকান থেকে ‘সিলভার পলিশ’ কেনা ভালো।
টুথপেস্ট
এক্ষেত্রে একেবারে সাদা টুথপেস্ট ব্যবহার করতে হবে। কোনোভাবেই হোয়াইটনিং ফর্মুলা, বিশেষ ধরণের দানাদার বা জেল টুথপেস্ট ব্যবহার করা যাবে না। একটি নরম ভেজা কাপড় বা স্পঞ্জ নিয়ে তাতে টুথপেস্ট নিন। এবার সেটি দিয়ে গয়নাটি সামনে-পেছনে সোজা লাইনে ঘষে ঘষে পরিষ্কার করতে থাকুন।
স্পঞ্জ বা কাপড় কালো হয়ে গেলে সেটি ধুয়ে আবার টুথপেস্ট লাগিয়ে ঘষুন। গয়না পরিষ্কার হয়ে গেলে হালকা গরম পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার নরম তোয়ালে দিয়ে মুছে ফেলুন।
সাবধানতা: টুথপেস্ট দিয়ে মৃদুভাবে ধীরে ধীরে ঘষবেন। যদি মনে হয় গয়নায় আঁচড় পড়ছে, তবে সঙ্গে সঙ্গে ঘষা বন্ধ করে দিন।
রূপার গয়নার যত্ন
– কালচে হোক বা না হোক, নিয়মিত আপনার রূপার গয়না পরিষ্কার করুন। সামান্য কালচে প্রলেপ পড়া শুরু হলেই ফসফেটমুক্ত নমনীয় ডিটারজেন্ট দিয়ে হালকা গরম পানিতে সেগুলো ধুয়ে ফেলুন। এতে রূপা নোংরাও হবে কম।
– ধোয়া শেষে অবশ্যই নরম কাপড় দিয়ে ভালোভাবে মুছে গয়না শুকিয়ে ফেলুন।
– কখনোই রাবারের দস্তানা পড়ে রূপার গয়না পরিষ্কার করবেন না। এমনকি রাবারের কোনোকিছুর সংস্পর্শেও রাখবেন না রূপার তৈরি কোনো কিছু। রাবার রূপা ক্ষয় করে ফেলে।
– স্টেইনলেস স্টিল রূপার জন্য ক্ষতিকর। তাই আপনার রূপার গয়না কখনো স্টিলের অন্যান্য জিনিসের সঙ্গে ধোবেন না। এছাড়াও ধোয়ার সময় সরাসরি সিংকে বা স্টিলের বাটিতে না রেখে কাচ বা প্লাস্টিকের বাটিতে রাখুন।
– রূপা খুবই নমনীয় একটি ধাতু। শক্ত কাপড় দিয়ে জোরে মুছলেও তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই রূপার গয়না মোছার জন্য সবসময় বিশেষ ধরণের পলিশিং ক্লথ বা নরম, আঁশবিহীন পরিষ্কার সুতি কাপড় ব্যবহার করুন।
– রূপার গয়না ধুয়ে মুছে পুরোপুরি শুকিয়ে গয়না রাখার বিশেষ ব্যাগে সংরক্ষণ করুন। ব্যাগ না থাকলে এসিডবিহীন নরম টিস্যু পেপারে ভালোভাবে মুড়িয়ে জিপলক প্লাস্টিক ব্যাগে রেখে দিন।
– অন্যান্য ধাতুর গয়নার সঙ্গে রূপার গয়না রাখবেন না।







