ফতুল্লার উইকেট যদি বাংলাদেশের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহকে বিস্মিত করে থাকে তাহলে বলতেই হচ্ছে ভক্ত-সমর্থক এমনকি ক্রিকেট পাঠশালার শিক্ষার্থীদের বিস্মিত করেই ভারতের সঙ্গে সিরিজের একমাত্র টেস্টে প্রথম একাদশ সাজিয়েছে বাংলাদেশের টিম-ম্যানেজমেন্ট।
কোচ, অধিনায়ক বলে আসছিলেন প্রথম একাদশে টিম কম্পোজিশন কি হবে তা চূড়ান্ত হবে শেষ মুহূর্তে। বাতাসে ভাসছিলো গুঞ্জন এক স্পেশালিস্ট পেসার নিয়ে খেলবে বাংলাদেশ, অন্যপ্রান্তে মিডিয়াম পেসার সৌম্য সরকারকে দিয়ে চালিয়ে দেয়া হবে নতুন বল ব্যবহারের কাজ।
তাই বলে সৌম্য’র সঙ্গী হিসাবে পেস ডিপার্টমেন্টে থাকবেন না সাম্প্রতিক সময়ে দূর্দান্ত ফর্মে থাকা রুবেল হোসেন! এটা মহাবিস্ময়করই বটে!
বাংলাদেশ-ভারত সবর্শেষ মোকাবেলা মেলবোর্নে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। সেই ম্যাচে রুবেলের গতিময় বোলিং বিপাকে ফেলেছিলো ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের। ভিরাট কোহলির উইকেট নেওয়ার পর রুবেলের বীরোচিত উল্লাস আর ভিরাটের বিব্রত হয়ে মাঠ ছাড়ার দৃশ্যটি এখনো বিশ্বখ্যাত টিভি চ্যানেলের আলোচিত বিজ্ঞাপন।
সেই রুবেলই কিনা ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম একাদশের বাইরে!
বলার চেষ্টা করা হচ্ছে ভারতের সঙ্গে যা কিছু প্রতিদ্বন্দ্বিতা তা নাকি ওয়ানডে সিরিজে। সেই গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের জন্য একমাত্র টেস্টে রুবেলকে বিশ্রাম। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের জন্য যদি সেরা পেসারকে একমাত্র টেস্টে বিশ্রামে রাখতে হয়, তাহলে সেরা পেসাররা টেস্ট কখন খেলবেন?
টেস্ট ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে সবসময়ই বলা হয়, ‘জেতাটাই প্রধান টার্গেট।’ টেস্ট জিততে হলে তো সেরা বোলিং শক্তি নিয়ে নামতে হয়, যাতে প্রতিপক্ষকে দুইবার অল আউট করা যায়। ফতুল্লা ম্যাচে কি বাংলাদেশ ভারসাম্যপূর্ণ সেরা বোলিং আক্রমণ নিয়ে দল গড়েছে?
মাত্র দুই টেস্ট খেলা তরুণ মোহাম্মদ শহিদের উপর নির্ভর করে বিশ্বখ্যাত ভারতের ব্যাটিং ডিপার্টমেন্টকে পেস বোলিং দিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলা কি একটু বেশি চাওয়া হয়ে যায় না ?
শুধু বোলিং নয়, ফতুল্লা টেস্টের প্রথম একাদশেই পরিস্কার, জেতার লক্ষ্যটি স্রেফ কথার কথা। আট ব্যাটসম্যান, অলরাউন্ডার সাকিবকে বাদ দিলে তিন স্পেশালিস্ট বোলার নিয়ে সাজানো হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম একাদশ। ইংগিত পরিস্কার, জেতার চেয়ে ম্যাচ বাঁচানোই মুখ্য।
বাংলাদেশের কোনো কোনো ক্রিকেটারের চেয়ে টেস্ট খেলার হিসাবে ভারতীয় দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারই পিছিয়ে। এই তরুণ ভারতীয় দলটিই উইকেট আর কন্ডিশনকে গুরুত্ব দিয়ে পাঁচ স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যানের সঙ্গে পাঁচ স্পেশালিস্ট বোলার দিয়ে প্রথম একাদশ সাজিয়েছে।
টেস্ট জিততে হলে প্রথম প্রয়োজন যে আগ্রাসী মানসিকতা সেটাই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে ভিরাট কোহলির ভারতীয় দল।







