মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাসদের সাবেক সভাপতি কাজী আরেফ আহমেদসহ ৫ জাসদ নেতা হত্যা মামলায় তিন খুনির ফাঁসি কার্যকর হতে যাচ্ছে আজ মধ্যরাতে। যশোর কারাগারে বন্দী তিন আসামি আনোয়ার হোসেন, রাশেদুল ইসলাম ঝন্টু ও হাবিবুর রহমানকে রাতে ফাঁসি দেয়া হবে।
হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১৭ বছর পর মামলার রায় কার্যকর হচ্ছে। এ বিষয়ে কাজী আরেফ আহমেদের স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ মহিলা শ্রমিক লীগের সভাপতি রওশন জাহান সাথী কথা বলেছেন চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে।
এতো বছর পর অবশেষে হত্যাকাণ্ডের রায় কার্যকর হচ্ছে, এ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রওশন জাহান সাথী বলেন, কাজী আরেফ আহমেদ বাংলাদেশের একজন জাতীয় রাজনীতিবিদ এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ছিলেন বিএলএফ (বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স) নেতা।
রায় কার্যকর বিষয়ে সন্তুষ্টি থাকলেও কিছু বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষন করে রওশন জাহান বলেন, রায়ের পর এখনো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামী পলাতক, অনেকে জেলখানা থেকে বেরিয়ে গেছে। বাচ্চু মোল্লার বাবা আহসানুল হক মোল্লা (পচা মোল্লা) জোট সরকারের প্রতিমন্ত্রী থাকার সময় বাচ্চু মোল্লা, হাবলু মোল্লারা হাইকোর্টে কোয়াশমেন্ট করে মামলা থেকে তাদের নাম খারিজ করে বেরিয়ে যায়।
তবুও এখন যাদের বিচার হয়েছে সেই রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘আইন আইনের গতিতে চলবে। সেই বিশ্বাসটা রাখতে চাই আমরা। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড নিয়ে এতদিনেও পাঁচজন, যাদের নাম-পরিচয় স্পষ্ট, কী করে বা কেনো পলাতক থাকতে পারছে এটাও অনেকের কাছে প্রশ্ন। কারণ তিনজনের ফাঁসি কার্যকর হচ্ছে এটা যেমন সত্যি, তেমনি এটাও সত্যি যে বাকিরা এখনো পলাতক। এতে কাজী আরেফের মতো এতো বড় একজন দেশপ্রেমিক নেতার তেমন কোনো রাজনৈতিক মূল্যায়ন কি হয়েছে?’
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজী আরেফের মতো নেতাদের রাজনৈতিক মূল্যায়ন হওয়া খুব প্রয়োজন বলে মনে করেন রওশন জাহান। তিনি বলেন, এ ধরণের নেতার মৃত্যু এভাবে হওয়া উচিত নয়। বিশ্লেষক-বোদ্ধা-রাজনীতিবিদ সবারই ভাবা দরকার যে এ ধরণের দেশপ্রেমিক, সৎ রাজনীতিবিদকে হত্যা করে কোনো অগ্রগতি পাওয়া যায় না। দল, রাজনীতি, দেশ পিছিয়ে যায়।
হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর পর রায়, তারও ১১ বছর পর কার্যকর – এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিসহ পাঁচ নেতার হত্যা মামলার রায় কার্যকরে এতো কেনো দেরি হলো বলে মনে করেন, এর জবাবে রওশন জাহান বলেন, ‘এটা তো দেখতেই পাই, এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘসূত্রিতা। মামলাটি নিয়ে দীর্ঘদিন আমাদের আদালতে দীর্ঘসূত্রিতা কাজ করেছে।’ একে খুবই দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জাসদের সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত হন জাতীয় পতাকার অন্যতম রূপকার কাজী আরেফ আহমেদ। ওই ঘটনায় নিহত হন কুষ্টিয়া জেলা জাসদের সভাপতি লোকমান হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলীসহ আরো পাঁচজন।
আলোচিত এ হত্যা মামলায় কুষ্টিয়ার জেলা ও দায়রা জজ আদালত ২০০৪ সালের ৩০ আগস্ট কুষ্টিয়ার জজ আদালত ১০ আসামির ফাঁসি ও ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন। পরে আসামিপক্ষ আপিল করলে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত একজন ও যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ১২ আসামিকে খালাস দেন উচ্চ আদালত।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য ৫ আসামি- মান্নান মোল্লা, জালাল ওরফে বাশার, রওশন আলী, বাকের আলী ও জাহান আলী পলাতক। এদের খুঁজে বের করে দ্রুত ফাঁসি কার্যকরের দাবি নিহতের পরিবার ও জাসদ নেতাদের।






