মার্কিন অভিযোগ এবং আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ বলেছেন,‘ রাসায়নিক অস্ত্র দিয়ে আমি নিজের জনগণকে হত্যা করেছি, মার্কিনীদের এই অভিযোগ শতভাগ অসত্য।’
আসাদ বলেন,‘নিজের জনগণের ওপর এরকম হামলা চালানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই, পরিস্থিতিও নেই।’ বরং এই হামলাকে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের নীলনকশা বলেই মনে করেন। তার মতে সিরিয়ার বিমানঘাঁটিতে বোমা ধ্বংসের উদ্দেশেই মিথ্যা-বানোয়াট তথ্য দিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
সিরিয়ার সেনাবাহিনীও মনে করে আসাদ সরকার এবং রাশিয়াকে বিতর্কিত করতেই কৌশলে ইসলামিক স্টেটের রাসায়নিক অস্ত্রের গুদামে বিমান হামলা করে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সিরিয়ার সেনাদের দাবি, বুধবার সিরিয়ার স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৫ টায় মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে আইএসের জমা করা রাসায়নিক অস্ত্রের গুদামে হামলা চালানো হয়।
তবে মার্কিন বিমানবাহিনীর কর্নেল জন ডোরিয়ান এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন,‘ওই সময়ে আমরা ওই এলাকায় কোনো বিমান হামলাই চালাইনি।’
তিনি আরও বলেন,‘আসাদ ও তার অনুগত সেনাবাহিনীর এই দাবি সঠিক নয়। আসাদ সরকার জেনেশুনে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে।’
কিন্তু সিরীয় সেনাবাহিনীর ভাষ্যমতে, রাসায়নিক অস্ত্রের শিকার হয়ে এতো সাধারণ মানুষের প্রাণহানী এটাই প্রমাণ করে যে আইএসের হাতে এই ভয়ঙ্কর মারণাস্ত্র আছে। আর সিরিয়ার মিত্র রাশিয়ার সন্দেহ মার্কিন মদদ পাওয়া আসাদ বিরোধীদের গুদামেই ছিলো এই ভয়ঙ্কর অস্ত্র।
গত বুধবার সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশের খান শেইখুন শহরে হওয়া রাসায়নিক হামলায় নারী ও শিশুসহ ৮৯ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়। হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়া সরকারকে দায়ী করলেও সরকার কোনোরকম রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে আসাদ সরকারের প্রধান মিত্রদেশ রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, সিরিয়ার কাছে রাসায়নিক অস্ত্র থাকার কোনো প্রমাণ এখনো দেখাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র।
ওই রাসায়নিক হামলার জবাবে শুক্রবার সিরিয়ার একটি বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওই ঘাঁটিতে টানা ৫৯টি মিসাইল ছোঁড়া হয়।








