বাদ পড়ার ক্ষণ তখন ছয় মিনিট দূরে। রাশিয়ার কোচ দুহাত তুলে গ্যালারিকে গর্জন তুলতে বলছেন। সেই গর্জনে ভেসে যেতে থাকা ম্যাচের বুকে ফিগুয়েরা ফার্নান্দেজের হেডে প্রাণের সঞ্চার। অতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে ২-২ ব্যবধান। এই রাশিয়া শনিবার রাতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বিপ্লব তো ঘটালোই, সঙ্গে লিখতে শুরু করেছিল নতুন রূপকথা। সেটি হয়নি পেনাল্টি শ্যুটআউটে ৩-৪ ব্যবধানে হেরে যাওয়ায়।
নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর ক্রোয়েশিয়া এগিয়ে যায় অতিরিক্ত সময়ের প্রথম ১৫ মিনিটের খেলায়। ১০১তম মিনিটে লুকা মদ্রিচের কর্নার থেকে উড়ে আসা বল ডোমাগজ ভিদা হেড করলে বল জালে জড়িয়ে যায়। রাশিয়া ব্যবধান ২-২ করে ১১৫তম মিনিটে। অ্যালান জাগোয়েভের সেটপিচ থেকে লাফিয়ে হেড করে বল জালে জড়িয়ে দেন মারিও ফিগুয়েরা ফার্নান্দেজ!
পেনাল্টি কাহিনী:
প্রথম শটে রাশিয়ার হয়ে গোল করতে ব্যর্থ হন স্মোলভ।
ক্রোয়েশিয়ার প্রথম শট নেন মার্সেলো ব্রোজোভিচ। তিনি গোল পান, ব্যবধান ১-০।
রাশিয়ার দ্বিতীয় শট নিতে আসেন অ্যালান জাগোয়েভ। তিনি গোল পান।
ক্রোয়েশিয়ার দ্বিতীয় শট নেন মাতেও কোভাচিচ। তিনি গোল পেতে ব্যর্থ হন, ব্যবধান ১-১।
রাশিয়ার তৃতীয় শটে গোল পেতে ব্যর্থ হন মারিও ফিগুয়েরা ফার্নান্দেজ।
ক্রোয়েশিয়া তৃতীয় শটে গোল পায়, ব্যবধান ২-১।
রাশিয়া চতুর্থ শটে গোল পায়।
ক্রোয়েশিয়াও চতুর্থ শটে গোল পায়, ব্যবধান ৩-২।
রাশিয়া শেষ শটে গোল পায়।
ক্রোয়েশিয়ার রাকিটিচ শেষ শটে জালের দেখা পেয়ে দলকে ৪-৩ ব্যবধানের জয় এনে দেন।
রাশিয়া শেষবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে ১৯৭০ সালে। সেসময় তারা সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ক্রোয়েশিয়া সর্বশেষ সেমিফাইনাল খেলেছে ১৯৯৮ সালে। এবার শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।

দুই দলই শনিবার রাতে শুরুতে সতর্ক ফুটবল খেলতে থাকে। ক্রোয়েশিয়া নিজেদের পায়ে বেশি বেশি বল রেখে আক্রমণে উঠতে থাকে। রাশিয়া রক্ষণ সামলে কাউন্টার অ্যাটাকে যাওয়ার পরিকল্পনা নেয়। ৩১তম মিনিটে সেই কাউন্টার অ্যাটাক থেকেই সফলতা পায় দলটি।
চেরিশেভ বক্সের সামনে জুবার সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান খেলে দুইপা সামনে এগিয়ে বক্সে ঢুকেই শট নেন। গোলরক্ষক কিছু বুঝে ওঠার আগেই বল জালে জড়িয়ে যায়। টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা এই গোলটি ঠেকানোর কোনো উপায়ই ছিল না তার। এটি চেরিশেভের চতুর্থ গোল। প্রথম ম্যাচেও দূর থেকে গোল করেছিলেন তিনি।
ক্রোয়েশিয়া সমতায় ফেরে ৩৯তম মিনিটে। বক্সের ভেতর থেকে মারিও মানজুকিচ বল দেন আন্দ্রেজ ক্রামারিককে। দারুণ এক হেডে জাল খুঁজে নেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও সতর্ক ফুটবল খেলতে থাকে দুই দল। ৬০তম মিনিটে অল্পের জন্য গোল বঞ্চিত হয় ক্রোয়েশিয়া। বক্সের ভেতর থেকে ইভান পেরিসিকের নেয়া শট বারে লেগে ফিরে আসে!
৭০তম মিনিটে রক্ষণ থেকে লম্বা পাসে বল নিয়ে ক্রোয়েশিয়ার ডিবক্সের পাশে চলে যায় রাশিয়া। ঠিক বাইরে থেকে মারিও ফিগুয়েরা ফার্নান্দেজ বল তুলে দেন। লাফিয়ে হেড করেন বদলি খেলোয়াড় ফিওদর স্মোলভ। অল্পের জন্য সেটি বারের উপর দিয়ে চলে যায়।







