আয়ারল্যান্ডের মতোই ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। বৃষ্টিতে ঘণ্টা দুয়েক সময় নষ্ট হওয়ায় ম্যাচ নেমে আসে ৪৫ ওভারে। তারপরও হাইস্কোরিং ম্যাচ দেখা গেল এসেক্সের চেমসফোর্ডে। আয়ারল্যান্ডের দেয়া ৩২০ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশ টপকেছে ৩ বল হাতে রেখে। পেয়েছে ৩ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয়। সফরকারীরা তিন ম্যাচ সিরিজে এগিয়ে গেছে ১-০তে। প্রথম ম্যাচ হয়েছে বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত।
৪৫ ওভারে ৩২০ রান তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। দলীয় সংগ্রহ পঞ্চাশ পেরোনোর আগেই সাজঘরে দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। ১৩ বলে ৭ রান করে শুরুতেই ফেরেন তামিম। ফ্লিক করতে শর্ট মিডউইকেটে ধরা পড়েন বাংলাদেশ অধিনায়ক। দলীয় সংগ্রহ তখন মোটে ৯।
লিটন ঝড়ো ইনিংসের আভাস দিয়ে ফেরেন ২১ রান করে। দলের রান তখন ৪০। লিটনের ২১ বলের ইনিংসে মারেন দুটি চার ও একটি বিশাল ছক্কা।
টস হেরে ব্যাট করতে নামা আয়ারল্যান্ড শুরুতে হাসান মাহমুদের পেস তোপে রীতিমতো কাঁপছিল। দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দেন দ্রুতই। ১৬ রানে ২ উইকেট হারানো দলটি অবশ্য ৪৫ ওভারের ম্যাচে ছাড়িয়ে যায় তিনশ। হ্যারি টেক্টরের ১৪০ রানের ইনিংস আর জর্জ ডকরেলের ৭৪ রানের ক্যামিও স্বাগতিকদের নিয়ে যায় রানের চূড়ায়।
চেমসফোর্ডে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪৫ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩১৯ রান তোলে আয়ারল্যান্ড। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটিই সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ আইরিশদের। ওয়ানডেতে চতুর্থ সেঞ্চুরি পান টেক্টর। ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসটি খেলে মাত্র ১১৩ বলে। মারেন ১০টি ছয়, ৭টি চার।
ডকরেল ৪৭ বলে ৭৪ রানে অপরাজিত থাকেন। মার্ক অ্যাডায়ার ৮ বলে ২০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে সংগ্রহ আরও বড় করেন। শেষ ৯.১ ওভারে ১১৯ রান তোলে আয়ারল্যান্ড।
এদিন নাজমুল হোসেন শান্ত সেঞ্চুরি আরেকটু বড় করতে পারলে শেষ ওভার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো না বাংলাদেশকে। এ বাঁহাতি ১১৭ রানের ইনিংস খেলে আউট হওয়ার পর কিছুটা চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল। শেষ ওভার পর্যন্ত ছিল অনিশ্চয়তা। শেষে ৬ বলে ৫ রানের সহজ সমীকরণও কঠিন হয়ে উঠেছিল প্রথম দুটি বল ডট হওয়ায়।
তৃতীয় বলে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ তুলে দেন মুশফিকুর রহিম। হাই ফুলটসে তৃতীয় আম্পায়ার নো বল ডাকায় রক্ষা পায় বাংলাদেশ। ফ্রি হিটে স্কুপ শটে চার মেরে দেন মি. ডিপেন্ডেবল। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে দল।
২৮ বলে ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন মুশফিক। মারেন চারটি চার। ৩ বলে এক বাউন্ডারিতে ৪ রানে অপরাজিত থাকেন শরিফুল ইসলাম। তার আগে মেহেদী হাসান মিরাজ ১৯ রান করে আউট হন। ৯৩ বলে ১১৭ রান করে থামেন শান্ত। ১২ চার ও ৩ ছয়ের ইনিংসটি ছিল দেখার মতো।








