কঠিন লক্ষ্য তাড়ায় রানের গতি সচল রাখতে সক্ষম হলেও দ্রুত ৫ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। সাজঘরে ফিরে গেছেন সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, এনামুল হক বিজয়, লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম।
নিউজিল্যান্ডে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বৃষ্টি আইনে পাওয়া লক্ষ্য ৩০ ওভারে ২৪৫ রানের পেছনে ছোটা সফরকারীদের সংগ্রহ ১৭ ওভারে ৫ উইকেটে ১০৯ রান। তাওহীদ হৃদয় ১৩ বলে এক চারে ১৩ ও আফিফ হোসেন ৪ বলে এক চারে ৫ রানে ক্রিজে আছেন।
রোববার ওয়ানডে বিশ্বকাপ দলে না থাকা সৌম্য সরকার ফিল্ডিংয়ে ছেড়েছেন দুটি ক্যাচ। ব্যয়বহুল বোলিংয়ে ৬ ওভারে ৬৩ রান খরচায় ছিলেন উইকেটশূন্য। ব্যাটিংয়ে নেমে রানের খাতা না খুলে অ্যাডাম মিলনের বলে টম ল্যাথামের হাতে ধরা পড়েন। দলীয় এক রানে লাল-সবুজের দল প্রথম উইকেট হারায়।
শুরুটা সাবলীল করলেও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন শান্ত। রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে ১৫ বলে ২ চারে ১৭ রান করে ইশ সোধির বলে বোল্ড হন টাইগার অধিনায়ক। দলে ফেরা এনামুল হক বিজয়ের ব্যাটে ছন্দ দেখা গেলেও পাননি ফিফটি। অভিষিক্ত ডানহাতি পেসার জশ ক্লার্কসনের বলে পুল শট খেলতে গিয়ে ফিরতি ক্যাচ দেয়ার আগে ৩৯ বলে ৫ চারে ৪৩ রানে থামেন।
চারে নামা লিটন দাস করেছেন হতাশ। বড় ইনিংস খেলার আশা জাগালেও ১৯ বলে এক চার ও এক ছক্কায় ২২ রানে থামেন তিনি। ক্লার্কসনের স্লোয়ার বাউন্সারে অহেতুক হুক করতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন। বল তার গ্লাভসে লেগে উইকেটরক্ষক টম ব্লান্ডেলের গ্লাভসে জমা পড়ে।
মুশফিক মাত্র ৪ রান করে রাচীন রবীন্দ্রর বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে আনেন সর্বনাশ। তার গ্লাভসে বল ছুঁয়ে ব্লান্ডেলের গ্লাভসে ধরা পড়লে মাঠ ছাড়েন।
এর আগে ডানেডিনে টস জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। পরে বৃষ্টির কারণে খেলা শুরু হতে এক ঘণ্টা ১০ মিনিট বিলম্ব হয়।
প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে রানের খাতা না খুলে মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসে ধরা পড়ে রাচীন রবীন্দ্র সাজঘরে ফেরেন। শেষ বলে দ্বিতীয় স্লিপে এনামুল হক বিজয়ের হাতে ধরা পড়ে শূন্য রানে ফেরেন হেনরি নিকোলস।
দশম ওভারের প্রথম বলে জীবন পান ১৮ রানে থাকা ল্যাথাম। কিউই অধিনায়ক মোস্তাফিজুর রহমানের বলে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিলে নিতে পারেননি সৌম্য।
স্বাগতিকদের স্কোর যখন ১৩.৫ ওভারে ২ উইকেটে ৬৩, তখন দ্বিতীয়বার বৃষ্টিবাধার মুখে পড়ে খেলা। ৪৫ মিনিট পর খেলা শুরু হয়। ততক্ষণে ম্যাচ ৪০ ওভারে নেমে আসে।
হাসান মাহমুদের করা ১৯তম ওভারের প্রথম বলে দুই রান নিয়ে ল্যাথাম ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৪ হাজার রান পূর্ণ করেন। দ্বিতীয় বলেও নেন দুই রান। এরপর আবারো বৃষ্টি নামে। তৃতীয় দফায় বৃষ্টির বাধার মুখে খেলা বন্ধের আগে কিউইদের স্কোর ছিল ১৯.২ ওভারে ২ উইকেটে ১০৮ রান।
তৃতীয় দফায় বৃষ্টি বাগড়া দেয়ার পর ৩০ ওভারে নেমে আসে ম্যাচ। বাইশ গজে দ্রুত রান তুলতে থাকেন ল্যাথাম ও ইয়াং। ২৩তম ওভারে ৬৮ রানে আবারো জীবন পান ল্যাথাম। নিজের বলে ফিরতি ক্যাচ ফেলে দেন সৌম্য।
সেঞ্চুরির দুয়ারে যাওয়া ল্যাথাম নার্ভাস নাইন্টিজে কাটা পড়েন। ৭৭ বলে ৯ চার ও ৩ ছক্কায় ৯২ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে বোল্ড হন। ভেঙে যায় তৃতীয় উইকেটে ১৭১ রানের জুটি। ১১ বলে ২০ রান করে মার্ক চ্যাপম্যান রানআউট হওয়ার পর শতক হাঁকান ইয়াং। ৮৪ বলে ১৪ চার ও ৪ ছক্কায় ১০৫ রানের ইনিংস খেলেন।
শেষদিকে টম ব্লান্ডেল ও অভিষিক্ত জশ ক্লার্কসন হন রানআউট। নিউজিল্যান্ডের ইনিংস ৭ উইকেটে ২৩৯ রানে থামে। বৃষ্টি আইনে টাইগারদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৪৫ রান।
বাংলাদেশের পক্ষে ৬ ওভারে ২৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন শরিফুল। মিরাজ একটি উইকেট পেলেও ছিলেন খরুচে, ৫ ওভারে দেন ৫৩ রান।








