রানা প্লাজা ধসের পাঁচ বছরে এসেও সেই ঘটনায় জড়িতদের বিচার শেষ করা সম্ভব হয়নি। গত বছর এই ঘটনার চার বছরপূর্তিতে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করে। ওই গবেষণায় বলা হয়, রানা প্লাজায় আহত শ্রমিকদের মধ্যে ৪২.৪ শতাংশই বেকার। ঘটনার পর থেকে তারা কোনো কাজ পায়নি। কাজ না থাকায় সেইসব শ্রমিকেরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকাল পৌনে ন’টায় সাভার বাসস্ট্যান্ডের পাশে রানা প্লাজা নামের ওই বহুতল ভবনটি ধসে পড়ে। ভবনের কয়েকটি তলা মাটির নিচে দেবে যায়। কিছু অংশ পাশের একটি ভবনের ওপর গিয়ে পড়ে।
সর্বশেষ হিসাবে এ দুর্ঘটনায় এক হাজার ১৭৫ জন শ্রমিক নিহত হয়। আহত হয় দুই হাজারেরও বেশি মানুষ। যে ঘটনা ছিল বিশ্বের ইতিহাসে ৩য় বৃহত্তম শিল্প দুর্ঘটনা। ভবনটিতে ফাটল থাকায় তা ব্যবহার না করার সতর্কবার্তা ছিল। কিন্তু তা উপেক্ষা করা হয়।
এ ঘটনার পর নানা অভিযোগে মামলা হয়েছে মোট ১৪টি। এর মধ্যে রয়েছে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ, রাজউকের করা ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্ঘন, নিহত একজন পোশাক শ্রমিকের স্ত্রীর করা খুনের মামলা এবং পুলিশের করা কয়েকটি মামলা।
এসব মামলার মূল আসামী ক্ষমতাসীন দলের নেতা সোহেল রানা। সে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকলেও অন্য আসামীরা এখন জামিনে মুক্ত। আদালতে ১৪টি মামলা দায়ের হলেও একটি মাত্র মামলায় শুধু রানার সাজা হয়।
মামলাগুলোতে বিভিন্ন সময়ে রানা ও তার পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও সাভারের জনপ্রতিনিধি, প্রকৌশলী, গার্মেন্টস মালিক ও কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের জেলে যেতে হলেও বর্তমানে তারা সবাই জামিনে আছেন।
ঘটনার দুই বছর এক মাস পর ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৫৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে দুই মামলায় চার্জশিট দেয়া হয়। ২০১৬ সালের জুন ও জুলাইয়ে ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চার্জ গঠন হলেও উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসেন ২১ জন অভিযুক্ত। তবে ওই হত্যা মামলায় স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ১২ই মে।
আদালতে অভিযোগপত্র দিলেও বিচারের ক্ষেত্রে তেমন অগ্রগতি নেই বলে দাবি করেছেন গার্মেন্টস এন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি বাবুল আক্তার। তিনি বলেছেন, ৪১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট দেয়া হয়েছিল যাদের মধ্যে দু’জন মারা গেছেন।
আমরা দেখলাম, পাঁচ বছরেও সহস্রাধিক মানুষের হত্যার দায়ে কারো শাস্তি হলো না। তাহলে কি ধরে নিতে হবে; বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে? দেশের শিল্প ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনায় এখনও আহতদের আহাজারী বাতাসে ভাসে। এখনও পঙ্গু জীবন যাপন করা মানুষগুলোর কান্না শোনা যায়।
এত কিছুর পরও আমরা মনে করি, এই ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে, এ ধরনের অবহেলায় মৃত্যুর মিছিল থামানো যাবে না। যত দ্রুত সম্ভব, বিচার কাজ শেষ করে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক – এটাই আমাদের চাওয়া।








