আর একটি রাত, নতুন দিনের সূর্যে চোখ রেখে মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। পর্দা উঠতে চলেছে হকির এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বাংলাদেশ আসরের। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দিনে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মাঠে নামবে স্বাগতিকরা।
সোমবার পাঁচ দলের অধিনায়ককে সাক্ষী রেখে হয়ে গেল ট্রফি উন্মোচন। আভাস দিলো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন আর রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে। মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে হবে টুর্নামেন্টে সব ম্যাচ।
আসরে অংশ নিচ্ছে পাঁচ দল। বাংলাদেশের সাথে থাকছে ভারত, পাকিস্তান, জাপান ও সাউথ কোরিয়া। স্কোয়াডে করোনাভাইরাস থাবায় শেষ মুহূর্তে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে মালয়েশিয়া।
বড় আয়োজন দুয়ারে। আছে হতাশার কিছু ব্যাপারও। টুর্নামেন্টের সম্প্রচার সত্ত্ব কিনে সব ম্যাচ দেখাবে স্টার স্পোর্টস। বাংলাদেশের কোনো চ্যানেল দেখাবে না খেলা। টিভি সেটের সামনে বসে দেশের সব জায়গা থেকে দেখা নাও যেতে পারে খেলা। আছে খুশির খবরও। স্টেডিয়ামে দর্শকদের জন্য থাকছে বিনা টিকেটে প্রবেশাধিকার।
দেশের কোনো টিভি চ্যানেল টুর্নামেন্ট না দেখানোয় হতাশা প্রকাশ করেছেন আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ সিকদার, ‘আমরা ফেডারেশন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে প্রস্তাব দেইনি। বিষয়টি নিয়ে স্টার স্পোর্টসের সঙ্গেই কয়েকটি চ্যানেল যোগাযোগ করেছিল, পরে আর শেষ পর্যন্ত হয়নি।’
প্রত্যাশা অনুযায়ী স্পন্সর না পাওয়ার হতাশাও আছে। টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যানের কণ্ঠে ফুটে উঠল সেটি, ‘আমরা সেই অর্থে স্পন্সর পাইনি বলতে গেলে। তারপরও চেষ্টা চলছে, তবে অনেক ঘাটতি থেকেই যাবে।’
এশিয়ান হকি ফেডারেশনের প্রধান নির্বাহী তৈয়ব-ই-ইকরাম অবশ্য হকি ফেডারেশনের আয়ের পথ দেখিয়ে বললেন, ‘এই টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশের নানাভাবে আয়ের সুযোগ আছে। বিভিন্ন স্পন্সর, মার্কেটিং করে তারাও আয় করতে পারে।’
শনিবার ভারত অধিনায়ক মানপ্রিত সিং বলেছেন, টুর্নামেন্টে তিনি সবাইকেই সমশক্তির দল হিসেবে গণ্য করছেন। বাংলাদেশ দলকে সমীহ করে বলেছেন, তারা ভালো দল। ওদের বিপক্ষে এশিয়া কাপে খেলেছি।
বাস্তবতা যদিও ভিন্ন। শক্তির তারতম্যে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিস্তর ফারাক বাংলাদেশের। জিমি-আশরাফুলরা তো নিয়মিত খেলারই সুযোগ পান না। এবারই যেমন এমন একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে তাদের নামতে হচ্ছে প্রায় দুবছরের ম্যাচ বিরতির পর।
গত তিনদিনে অবশ্য দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। জাপান ও পাকিস্তানের বিপক্ষে করতে পারেনি আহামরি কিছু। স্বাগতিক কোচ গোবিনাথ কৃষ্ণমূর্তি তাই বড়কিছুর আশাও দেখাচ্ছেন না। আবার নিরাশও করছেন না, ‘মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি প্রতিটি খেলোয়াড় নিজেদের সেরাটা ঢেলে দেয়ার চেষ্টা করবে। নিজেদের মাঠে তারা খেলবে। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, তারা নিজেদের পুরোটা নিংড়ে দেবে।’
নানা সীমাবদ্ধতা আর আক্ষেপের মাঝে বড় প্রাপ্তি শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে বাংলাদেশের খেলার সুযোগ তৈরি হওয়া। আব্দুর রশিদ সিকদার তো বলেই দিলেন, ‘এই টুর্নামেন্ট খেলে আমাদের দল উপকৃত হবে। এশিয়া কাপে দলগুলো গ্রুপে ভাগ করে খেলা হয়। আর এই টুর্নামেন্টে সবাই সবার সঙ্গে খেলে। তাই আমরা চারটি দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাচ্ছি। এটা অবশ্যই আমাদের জন্য ভালো একটা দিক।’







