খুলনা থেকে: শফিউল ইসলামকে অতিরিক্ত ফিল্ডার ফজলে মাহমুদের ক্যাচ বানিয়ে আব্দুর রাজ্জাক দিলেন ভোঁ দৌড়। মিডঅফে দাঁড়ানো মাশরাফী হাতে তুলে নিলেন ননস্ট্রাইকিং প্রান্তের স্টাম্প। উইকেটের পেছনে থাকা সাউথ জোনের অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান তার আগেই স্টাম্প তুলে মেতেছেন জয়োল্লাসে। খানিক বিশ্রাম নিতে বাইরে আসা তুষার ইমরান ছুটলেন মাঠের দিকে। শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে এমন আনন্দের উপলক্ষ এনে দেয়ার কৃতিত্ব রাজ্জাকের। বিসিএলের শেষ রাউন্ডের প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেয়া এ বাঁহাতি স্পিনার দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট তুলে নিয়ে নর্থের বিপক্ষে সাউথকে এনে দিয়েছেন ইনিংস ও ৬৩ রানের ব্যবধানে জয়। আর তাতে চ্যাম্পিয়ন সাউথ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: নর্থ জোন-১৮৭ ও ১১৫; সাউথ জোন-৩৬৫/৮ (ইনিংস ঘোষণা)
দুই মৌসুম পর শিরোপার দেখা পেল মাশরাফী-সোহান-রাজ্জাকদের সাউথ জোন। বিসিএলের ছয় আসরের মধ্যে তিনবারই চ্যাম্পিয়ন তারা।
ম্যাচে মাত্র দুই পয়েন্ট পেয়েছে নর্থ জোন। সাউথ জিতে পেয়েছে ১০ পয়েন্ট আর বোনাস ৮ পয়েন্ট। ৬ ম্যাচে চ্যাম্পিয়ন দলের অর্জন ৬৫ পয়েন্ট। ৬২ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ নর্থ।

বিসিএলের প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেন্ট্রাল জোন। পরের দুই মৌসুম টানা চ্যাম্পিয়ন হয় সাউথ। তৃতীয় শিরোপা এল দুই মৌসুম পর। তিনবারের মধ্যে এটিই সবচেয়ে আনন্দপূর্ণ জয়। কেননা ঘরের মাঠে নামার আগে ‘অলিখিত চ্যাম্পিয়ন’ তকমা পেয়েছিল জহুরুল আরিফুল, শান্তদের নর্থ জোন। সাউথের চেয়ে ১৩ পয়েন্ট এগিয়ে থাকায় তাদের দিকে ঝুলে ছিল শিরোপা।
প্রথম ইনিংসে এক স্পেলে ২০.৩ ওভার করে ৫ উইকেট নেন রাজ্জাক। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬টি নেন টানা ২১.১ ওভার বোলিং করে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নবম ম্যাচে ১০ বা তার বেশি উইকেট শিকার। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ ৫ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়েন। ছাড়ান এনামুল হক জুনিয়রের (৩২ বার) রেকর্ড। এই ম্যাচেই আবার জ্বলে উঠে ৩৪ বার ৫ উইকেট শিকার করে এনামুলকে আরও পেছনে ফেললেন।
বুধবার ৮ উইকেট হারিয়ে ৩৬৫ রান তোলার পর প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে সাউথ জোন। পড়ন্ত বিকেলে দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৩২ রান তুলে জবাবটা দেবে তারা। কিন্তু তৃতীয় দিনের সকালে স্পিন বিষে পুড়ে ছাই নর্থ। এদিন ৩০ রানের ব্যবধানে তারা হারায় প্রথম ৭ উইকেট। যার মধ্যে রাজ্জাকের শিকার চারটি।
৬৫ রানে ৭ উইকেট হারালে লাঞ্চের আগেই ম্যাচ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা জাগে। তবে সেটিকে বিলম্বিত করার চেষ্টা চালান ৮ নম্বরে নাম সোহরাওয়ার্দী শুভ। এ বাঁহাতি ফরহাদ রেজাকে সঙ্গী করে ৪১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। অষ্টম উইকেট ভাঙে লাঞ্চের শেষ ওভারে। ইমরুল কায়েস বল হাতে নিয়ে জুটি ভাঙেন ২৯ বলে কোনো রান না করা ফরহাদ রেজাকে ফিরিয়ে। ম্যাচ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় লাঞ্চ বিরতিতে না গিয়ে খেলা চালিয়ে নেন আম্পায়াররা। শেষ দুই উইকেট রাজ্জাক তুলে নিলে ১১৫ তে গুটিয়ে যায় নর্থ। প্রথম ইনিংসে তারা করেছিল ১৮৭ রান। জবাবে ইমরুল কায়েসের সেঞ্চুরিতে ৮ উইকেটে ৩৬৫ রান করার পর ইনিংস ঘোষণা করে সাউথ জোন।
রোল অব অনার:
২০১২-১৩ মৌসুম চ্যাম্পিয়ন সেন্ট্রাল জোন
২০১৩-১৪ মৌসুম চ্যাম্পিয়ন সাউথ জোন
২০১৪-১৫ মৌসুম চ্যাম্পিয়ন সাউথ জোন
২০১৫-১৬ মৌসুম চ্যাম্পিয়ন সেন্ট্রাল জোন
২০১৬-১৭ মৌসুম চ্যাম্পিয়ন নর্থ জোন
২০১৭-১৮ মৌসুম চ্যাম্পিয়ন সাউথ জোন







