রাজধানীতে দুই বাসের চাপায় হাত হারানোর পর রাজীবের মৃত্যুতে তার দুই ভাইয়ের জন্য ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ এবং ওই দুর্ঘটনায় কোন বাস দায়ী তা নিরুপণে একটি কমিটি করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
ওই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন শিক্ষক এবং নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন।
হাইকোর্ট এই কমিটিকে আগামি ৩০ জুনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ নিরুপণ এবং ওই দুর্ঘটনায় কোন বাস দায়ী তা চিহ্নিত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য ৪ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেন।
গত ২২ মে রাজিবের দুই ভাইকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। তবে আপিল বিভাগ রাজীবের ভাইদের জন্য ক্ষতিপূরণ নিরুপণ করে দিতে এবং ওই দুর্ঘটনায় কোন বাস দায়ী তা চিহ্নিত করতে একটি নিরপেক্ষ কমিটি করতে আদেশ দেন।
এর আগে গত ৮ মে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ রাজীবের দুই ভাইকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১ কোটি টাকা দেয়ার নির্দেশ দেন। বিআরটিসি ও ‘স্বজন পরিবহন’কে ৫০ লাখ করে মোট এক কোটি টাকা দিতে ওই আদেশে বলা হয়।
গত ৩ এপ্রিল বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার সামনে দুই বাসের মাঝে পড়ে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব হোসেনের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বাংলামোটর থেকে ফার্মগেটমুখী বিআরটিসির একটি দোতলা বাসে ছিলেন রাজীব। সেটি সার্ক ফোয়ারার কাছে পান্থকুঞ্জের পাশে সিগন্যালে এসে থামে। এ সময় একই দিক থেকে আসা স্বজন পরিবহনের একটি বাস দ্রুতগতিতে দোতলা বাসের পাশের ফাঁক দিয়ে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করে। ওই সময় রাজীবের ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে দুই বাসের মধ্যে ঝুলতে থাকে। রাজীবকে প্রথমে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।
পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজীবের মৃত্যু হয়।







