চামড়া শিল্পকে আরো বিকশিত করার জন্য রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগে নতুন দুটি চামড়া শিল্প নগরী গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুধু ঢাকায় নয় এ শিল্প বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে লেদারটেক প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন: ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে চামড়াখাত থেকে ১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় করা সম্ভব হয়েছে। তাই চামড়া শিল্পকে বিকাশের জন্য সাভারে পরিবেশ সম্মত চামড়া শিল্প নগরী গড়ে তোলা হয়েছে। হাজারীবাগ থেকে সাভারে পরিবেশসম্মত শিল্প নগরীতে ট্যানারিগুলো সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।
‘সাভারে ট্যানারী নগরীর আশেপাশে যেন আরো নতুন নতুন শিল্প গড়ে তোলা যায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে। এছাড়া রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগে নতুন দুটি চামড়া শিল্প নগরী গড়ে তোলা হবে। এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে। শুধু ঢাকায় নয় এ শিল্প বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করি।’
তিনি বলেন: জাতির পিতা একটা যুদ্ধ-বিদ্ধস্ত দেশ গড়ার কাজে হাত দিয়েছিলেন। রিজার্ভ ছিল না। তখন দেশ ছিল ক্ষত বিক্ষত। কোন কোন পণ্য রপ্তানি করে সাফল্য অর্জন করা যায় সে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তিনি। তখন তিনটি পণ্যকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে একটি হলো চামড়া শিল্প। সে সময়, ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে চামড়া ১৬ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলারে চামড়া এবং ১৮ হাজার ডলারের পাদুকা রপ্তানি করা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন: বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এই আয়োজন। এতে দেশিয় বিনিয়োগকারীরা উৎসাহ হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আকৃষ্ট হবে। প্রদর্শনীতে চীন, ভারত, ভিয়েতনাম থাইল্যান্ডসহ অংশ নেয়া দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি তারা এ খাতে বিনিয়োগ করবে। এ আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের চামড়া ও চামজাত পণ্য এবং পাদুকা শিল্পের মান ও বৈচিত্র বিশ্ব পরিমণ্ডলে তুলে ধরা সম্ভব হবে। এসময় তিনি বিদেশিদের বাংলাদেশের চামড়া শিল্পে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
প্রদর্শনীর মাধ্যমে চামড়া খাতে শিল্প উদ্যোক্তাদের কম্পলায়েন্স, দক্ষ শ্রমিকের সহযোগিতা, উৎপাদন খরচ, উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা ব্যাপকভাবে প্রচার করা যাবে উল্রেখ করে তিনি বলেন: আমাদের দেশে বিনিয়োগ এবং রপ্তানি বৃদ্ধিতে চামড়া খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ খাতের উৎপাদনশীলতা ও গুণগত উৎকর্ষতা বৃদ্ধিতে আরো সহায়ক হবে এই প্রদর্শনী। বাংলাদেশে চামজাত পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল প্রাপ্তি সহজ হবে।
‘চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং পাদুকা শিল্পকে আমরা ২০১৭ সালের পণ্য অর্থাৎ প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার ঘোষণা করেছি। আন্তর্জাতিক মান এবং স্টান্ডার্ড বজায় রাখার জন্য বেসরকারি খাতসহ একটি টেস্টিং ও সেলিব্রেশন সেন্টার স্থাপনেরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন: চামড়া খাতে রপ্তানিমূল্যের উপর ১০০ ভাগ রপ্তানি পারফরম্যান্স ও লাইসেন্স সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। যাতে রপ্তানিতে আরো সুবিধা করা যায়। সেই সাথে উৎপাদনকারী ট্যানারীগুলোকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে ফিনিশড চামড়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হয়েছে।
শিল্প স্থানান্তরে প্রণোদনা হিসাবে সাভারে চামড়া শিল্প নগরী থেকে ফিনিশড চামড়া রপ্তানির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন: চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ নগদ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে ঋণ দেয়া হচ্ছে। এ ঋণ নিয়ে নতুন উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসতে পারেন। এছাড়া ২০১৫ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এ খাতকে সর্ব অগ্রাধিকার খাত হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে।
লেদার খাতে বিজনেস কাউন্সিল গঠন করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন: এসব উদ্যোগের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন ব্র্যান্ড দেশিয় উদ্যোক্তাদের সাথে উৎপাদনে আগ্রহী হচ্ছে। বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা মেটানোর জন্য বাংলাদেশ থেকে চামড়াজাত পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। চামড়া খাতে ১৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা আগামী বছর অব্যাহত রাখার বিষয়ে অগ্রাধিকারভাবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। কারণ এটি একটি সম্ভাবনাময় খাত। এটি শ্রমঘণ শিল্প। এর সব কাঁচামাল দেশিয়ভাবে যোগান দেয়া যায়। সরকারের বিভিন্ন সহযোগিতা চামড়া খাত দ্বিতীয় রপ্তানি আয়েন খাত হিসাবে পরিচিতি লাভ করছে।
তিনি বলেন: ২০২১ সালে নির্ধারিত ৬০ বিরিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের ৫ বিরিয়ন এ খাত থেকে আসবে। যদি সব বিষয়কে যথাযথ কাজে লাগানো যায়।
পশুর চামড়া যথাযথ ভাবে ছাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন: দেশে পশু জবাই হয়। কিন্তু পশুর চামড়া যথাযথভাবে ছাড়ানো হয় না বা সংরক্ষণ করা হয় না। সেজন্য পশুর চামড়া ছাড়ানোর জন্য শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের জন্য উদ্যোক্তাদের উদ্যোগ নিতে হবে। উপযুক্ত ছুরি সংগ্রহ করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে চামড়াকে অত্যন্ত মূল্যবান চামড়া হিসাবে তৈরি করা যাবে। এ বিষয়ে চামড়া শিল্পখাত সংশ্লিষ্টদের আরো সচেতন হতে হবে। এ খাতে যদি প্রয়োজন হয় সরকার যথাযথ সহযোগিতা করবে। চামড়াকে যেন ভালভাবে কাজে লাগিয়ে রপ্তানি আয় বাড়ানো যায় সে বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে।








