বাস মালিকদের অতিরিক্ত মুনাফার টাকা শোধ করার পর চালকদের বাড়তি মুনাফার লোভে রাজধানীর গণপরিবহনে চলছে অশুভ প্রতিযোগিতা। কার আগে কে যাবে নিজেদের মধ্যে সেই প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত থাকে বাস চালকরা।
এই প্রতিযোগিতা রাজধানীতে এক ধরনের নৈরাজ্যে পরিণত হয়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণে এলাকাভিত্তিক গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।
দুই বাসের রেষারেষিতে পড়ে কলেজ ছাত্র রাজীব হোসেনের হাত হারানোর পর নতুন করে আলোচনায় রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থা।
রাজধানীতে বাস রুট রয়েছে প্রায় ৩’শ। এসব রুট দিয়ে চলাচল করে প্রায় ৫ হাজার বাস-মিনিবাস। যাত্রীদের তুলনায় গণপরিবহনের অপ্রতুলতাও রয়েছে। এসব কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের।
এছাড়া নিয়মিত চলে এক বাসের সঙ্গে অন্য বাসের প্রতিযোগিতা। শুধু তাই নয়, একই পরিবহনের মধ্যেও এই অশুভ প্রতিযোগিতা দেখা যায়।
যাত্রীদের অভিযোগ, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানোর জন্য অন্যদিকে কোনো খেয়াল থাকে না চালকদের। এসব পরিবহন নিয়ন্ত্রণে পুলিশও হিমশিম খায়। তবে গাড়ির চালকরা এজন্য দুষছেন কম বয়সী ড্রাইভারদের।
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি বলছে, মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর নগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর গতি কমে গেছে।
আর নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, এলাকাভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থা চালু ছাড়া স্থায়ীভাবে সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। সড়কের নিয়ম-শৃংখলার জন্য আইনের উপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিতের দাবি নগরবাসীর।
মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর বাংলামটরের দিক থেকে ফার্মগেটমুখী একটি দ্বিতল বিআরটিসি বাস সার্ক ফোয়ারার কাছে পান্থকুঞ্জের পাশে সিগনালে থেমে ছিলো। সে বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন রাজীব। খানিকবাদেই একই দিক থেকে আসা স্বজন পরিবহন নামের একটি বাস দ্রুতগতিতে এসে দ্বিতল বাসের বাঁ পাশের ফাঁক দিয়ে ঢুকে সামনে যাওয়ার (ওভারটেক) চেষ্টা করে।
দুই গাড়ি তখন টক্কর দিতে গেলে চাপে পড়ে ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ফটকে দাঁড়ানো রাজীবের। হাতটি দ্বিতল বাসের সঙ্গে ঝুলছিলোও তখন। তাৎক্ষণিকভাবে রাজীবকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নেওয়া হলেও হাতটি আর জোড়া দেওয়া যায়নি। মঙ্গলবারই রাজীবের অস্ত্রোপচার করা হয়।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের বাসচালককে ইতোমধ্যে দুই দিন করে রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।
বিস্তারিত দেখুন ভিডিও রিপোর্টে:








