মিয়ানমারের রাখাইনে রাজ্যের মংডু, বুথিডং, এবং রাথেডং টাউনশিপে স্কুলের কার্যক্রম স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা নিধনের বিষয়টি আড়াল করতেই এমন উদ্যোগ বলে স্পষ্টতই প্রতীয়মান।
বর্বর নির্যাতনের ভয়ার্ত পরিবেশকে স্বাভাবিক করে উপস্থাপনের চেষ্টার পরও শঙ্কিত শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। শঙ্কিত শিক্ষকদের দাবি, পূর্ণ নিরাপত্তার।
রাখাইন রাজ্যের শিক্ষা কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২৫ আগস্টে ‘সন্ত্রাসী হামলার’ পর থেকে ৪২৬টি স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। এগুলোর মংডুর ১৮৩টি, বুথিডং এর ২২২ এবং রুথেডং টাউনশিপের ২০টি স্কুল রয়েছে। মিয়ানমার টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে আরাকান রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মি’র (আরসা) হামলার বিষয়টিই শুধু উল্লেখ করা হয়।
দেশটির সেনা ও পুলিশের তল্লাশিচৌকিতে আরসা হামলা চালিয়েছে, এমন অভিযোগেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা নিধন অভিযান শুরু করে। যার জেরে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, সাথে এনেছে হত্যা, ধর্ষণের দুর্বিসহ অভিজ্ঞতা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার পর বুথিডং টাউনের বন্ধ হয়ে যাওয়া ২০টি স্কুল ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে। নিরাপদ পরিস্থিতি বিবেচনায় অন্যান্য স্কুলও খুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন টাউনশিপ শিক্ষা অফিস।
বুথিডং টাউনশিপের শিক্ষা অফিসার উ নিয়ুন্ত পায়ে মিয়ানমার টাইমসকে ২২ সেপ্টেম্বর জানান, সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকেই ২০টি স্কুলে ক্লাস শুরু হয়েছে। অন্যান্যগুলোও স্থানীয় টাউনশিপ কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু করবে।
তিনি বলেন, বুথিডং টাউনশিপে মোট ২২২টি স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬৫ হাজার। টাউনশিপের শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ২০টি স্কুল পুনরায় চালুর দিনে সকল শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের এক-চতুর্থাংশ উপস্থিত ছিলেন।
মংডু, বুথেডং ও রথেডং টাউনশিপের সকল শিক্ষা কর্মকর্তার জন্য ১২ সেপ্টেম্বর একটি নোটিশ জারি করা হয়। যাতে ১৯ সেপ্টম্বরের মধ্যে স্কুল চালু করতে বলা হয়। অন্যথায় কর্মী শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও হুশিয়ারি দেয়া হয়।
মিয়ানমার টিচার’স ফেডারেশন এক বিবৃতিতে শিক্ষকদের কাজে ফেরার জন্য জোড় করতে নিষেধ করেছেন। এর কারণ হিসেবে বলা হয়, পরিস্থিতি এখনও সম্পূর্ণ নিরাপদ হয়নি। কর্তৃপক্ষের অবশ্যই কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।







