উইকেট পাটা। টার্ন, বাউন্স বলতে যা বোঝায় তার দেখা নেই। প্রতিপক্ষ নেচে নেচে খেলছে। শুধু বাংলাদেশ প্রসঙ্গ আসলেই নাচ থাকছে না। ‘রহস্যময়’ কন্ডিশনের সুর তুলে ‘উঠোন বাঁকা’ হয়ে যাচ্ছে। পার্লের সেই ‘বাঁকা উঠোনে’ টস জিতে পরে ব্যাট করে এক ম্যাচ আগে সিরিজ খোয়ানোর দিনে ১০৪ রানের হার দেখতে হল।
প্রথম ম্যাচে আগে ব্যাটে করে ১০ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ। এই ম্যাচে রান তাড়া করার পরিকল্পনা সাজানো হয়। শুরুতে পেসাররা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আপ্রাণ চেষ্টা করেন। আগেরদিনের মতো অতটা বাইরে বাইরে ছন্নছাড়া বোলিং এদিন হয়নি। কিন্তু যেই না এবি ডি ভিলিয়ার্স ঝড় তোলা শুরু করেন, সব হাওয়া হয়ে যায়। ভিলিয়ার্স ১৭৬ করে ফিরলে বোলাররা আবার ছন্দ খুঁজে পান। ততক্ষণে অবশ্য ৪৭ ওভার পার! রুবেল চার উইকেট পাওয়ার দিনে শেষ ওভারে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন। তাতে খুশি হওয়ার উপায় ছিল না। সামনে ৩৫৪ রানের টার্গেট পড়ে যায়!
ভিলিয়ার্স ৬৮ বলে শতকে পৌঁছান। শুরুতে লেটকাট করতে যেয়ে স্লিপে একটা ক্যাচ দিয়েছিলেন। মুশফিক আর নাসির ‘আমি-তুমি’ করে তাকিয়ে তাকিয়ে বলের চলে যাওয়া দেখেন। এরপর আর কোনো সুযোগ দেননি। শেষ পর্যন্ত ১০৪ বল খেলে ১৭৬ করে সাব্বিরের হাতে ক্যাচ দেন। বোলার ছিলেন পেসার রুবেল হোসেন।
জবাব দিতে নেমে ইমরুল আর মুশফিক ছাড়া কেউ থিতু হতে পারেননি। প্রথম ম্যাচেও এই দুজন ছিলেন দলের সেরা ব্যাটসম্যান। মুশফিক শতক হাঁকিয়েছিলেন, ইমরুলের ৩১ ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই ম্যাচে ইমরুল করেন ৬৮, মুশফিক ৬০।
বড় ম্যাচ জিততে হলে তামিমের জ্বলা ছাড়া পারে না বাংলাদেশ। এদিনও সেটা প্রমাণিত হয়েছে। ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে দেশসেরা ওপেনার ২৫ বলে ২৩ করেন। তিন নম্বরে নেমে যাওয়া লিটন দাস এক চার, এক ছয়ে ১৪ করে বিদায় নেন। রিয়াদের ব্যাট থেকে আসে ৩৫।
ইমরুল-মুশফিক যতক্ষণ ছিলেন ততক্ষণ ঈশান কোণে একটা আশা জেগেছিল। কিন্তু যে গতিতে তারা দলকে টানছিলেন তা ভয় ধরার মতো। শেষ ১০ ওভারে ১৩’র উপরে রানরেট ছিল। একজন ‘ভিলিয়ার্সে’র অভাবে বাংলাদেশ সেটা করতে পারেনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
সাউথ আফ্রিকা: ৫০ ওভারে ৩৫৩/৬ (আমলা ৮৫, ডি কক ৪৬, ডু প্লেসিস ০, ডি ভিলিয়ার্স ১৭৬, ডুমিনি ৩০, বেহারদিন ৭*, প্রিটোরিয়াস ০, ফেলুকোও ০*; মাশরাফী ০/৮২, তাসকিন ০/৭১, সাকিব ২/৬০, নাসির ০/৪৯, রুবেল ৪/৬২, সাব্বির ০/১১, মাহমুদউল্লাহ ০/১৬)।
বাংলাদেশ: ৪৭.৫ ওভারে ২৪৯/১০ (তামিম ২৩, ইমরুল ৬৮, লিটন ১৪, মুশফিক ৬০, রিয়াদ ৩৫, সাকিব ৫, সাব্বির ১৭, নাসির ৩, মাশরাফী ০; ফেলুকোও ৪/৪০, প্রিটোরিয়াস ২/৪৮, তাহির ৩/৫০, প্যাটারসন ১/৬৭। )
ফল: ১০৪ রানে জয়ী সাউথ আফ্রিকা।
সিরিজ: সাউথ আফ্রিকা (২) – বাংলাদেশ (০)







