আমাদের শরীরের রক্তকণিকা প্রতি তিন মাস বা ১২০ দিন পর পর আপনা আপনি মারা যায়। আমরা চাইলেই জনসচেতনাতার মাধ্যমে এই রক্ত সংগ্রহ করে মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে পারি। অামার আপনার রক্তে বেঁচে যেতে পারে সুন্দর একটা জীবন। তাই রমজানের আগেই স্বেচ্ছায় রক্তদান করতে আহ্বান জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে পোস্ট দিয়েছেন।
তার ফেসবুকের এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “গতকাল এক লোক ফোনে যোগাযোগ করে বললো তার এক নিকটতম আত্মীয় এক্সিডেন্ট করেছে জরুরী রক্তের প্রয়োজন। তাদের রক্তের গ্রুপের সাথে মিলছে না। বিনয়ের সহিত জানালাম যে ঐ গ্রুপের মাত্র এক ব্যাগ রক্ত আমাদের সংগ্রহে আছে। জরুরী প্রয়োজন হলে নিয়ে যান। তিনি জানতে চাইলেন দাম কত? বললাম আমরা রক্ত ক্রয়-বিক্রয় করি না। তবে সম্ভব হলে যে কোন গ্রুপের এক ব্যাগ রক্ত আপনারা আমাদের পুলিশ ব্লাড ব্যাংকে ডোনেট করলে অন্য কারও উপকার হবে। তিনি রাজি হলেন এবং বললেন এক ঘন্টার মধ্যে আসবেন। তিন ঘন্টা পর তিনি এসে সরকারি হাসপাতাল দেখে তার চেহারাই পরিবর্তন করে ফেললেন। তিনি উল্টো প্রশ্ন করলেন সরকারি হাসপাতাল, সরকারিভভাবে রক্ত দিবেন কিন্তু আমরা কেন রক্ত চাচ্ছি! বিনয়ের সাথে বললাম সরকারি হাসপাতাল কিন্তু সরকার রক্ত দিতে পারেনা। আজ আপনি যেভাবে অন্য কারও রক্ত নিচ্ছেন কাল অন্য কেউ আপনার দেওয়া রক্ত নিবে এখান থেকে। কিন্তু তিনি বিনিময়ে টাকা দিতে ইচ্ছুক কিন্তু রক্ত দিতে অনীহা প্রকাশ করলেন। তাকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলাম যে রক্ত কৃত্রিমভভাবে তৈরী করা সম্ভব নয় শুধুমাত্র মানুষ পারে অন্য মানুষকে রক্ত দিতে। সবাই যদি শুধু নিতে চান তাহলে দিবে কে? আর আমরাই কত দিতে পারবো?

ঐ লোক রক্ত বিক্রেতা কিনা এই প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই। এই প্রশ্ন থেকে বিরত থাকুন।
আপনি চাইলে যে কোন সময় পুলিশ ব্লাড ব্যাংকে এসে রক্ত দান করে ডোনার কার্ড সংগ্রহ করতে পারেন। পরবর্তীতে ডোনার কার্ড প্রদর্শন করে জরুরী মূহুর্তে যে কোন গ্রুপের রক্ত সংগ্রহ করতে পারেন। মনে রাখবেন আপনার দেওয়া এক ব্যাগ রক্ত একজন মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাচাতে পারে। সামনে রমজান মাস, রমজান মাসে রক্ত প্রদান করা কষ্টকর। তাই আসুন রমজানের আগেই রক্তদান করে এই পবিত্র এবাদতে শরীক হই।”








