কোন রোগ শনাক্ত করণে প্রথম যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে রক্ত পরীক্ষা। কিন্তু মরণব্যাধি ক্যানসারে রক্ত পরীক্ষা করেই রোগ শনাক্ত করার জন্য যথেষ্ট না। এই বিষয়টাকে মাথায় রেখে বিজ্ঞানীরা ওষুধ দেওয়ার আগে ক্যানসারের জন্য রক্ত পরীক্ষার মধ্য দিয়ে রোগ নির্ণয়ে এনেছে অভিনব এক পদ্ধতি।
আমেরিকার বেসরকারি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় জন হপকিন্স পরীক্ষামূলক ভাবে রক্তের পরীক্ষা চালিয়ে আট ধরণের ক্যানসার নির্ণয় করেছেন।
শুধু রক্ত পরীক্ষাই ক্যানসার সম্পর্কে বিশেষ কোন তথ্য দেয় না। কারণ টিউমারের ক্ষুদ্র কণিকা রক্তের মাধ্যমে সারা দেহের মধ্যে প্রবাহিত হয় না।
আমেরিকান সোসাইটি অব অনকোলজির বার্ষিক সম্মেলনে গার্ডেন্ট হেলথের উপস্থাপিত একটি সমীক্ষার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে জেনেটিক পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে টিস্যু ছাড়া রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যানসার নির্ণয় করা সম্ভব হতে পারে।
সেক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির ক্যানসার হয়েছে কি না তা রক্তে উপস্থিত টিউমার ডিএনএর ক্ষুদ্র অংশ পরীক্ষা করেই জানা যাবে।

প্রাথমিক অবস্থায় সমীক্ষার জন্য ওভারি, লিভার, পেট, কোলন, ফুসফুস বা স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত ১,০০৫ জন রোগীর মধ্যে গবেষণাটি চালানো হয়। যাদের মধ্যে ক্যানসার টিস্যুটি অন্যন্য জায়গায় ছড়িয়ে যায়নি। সমীক্ষায় দেখা যায় রক্ত পরীক্ষার ফলে প্রাথমিক ক্যানসার আক্রন্ত ৭০ শতাংশ রোগীকে এই পদ্ধতিতে শনাক্ত করা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ মেডিসিনের ড. ক্রিশিয়ান টমাসেটি বিবিসিকে বলেন, প্রথম অবস্থায় এই শনাক্তকরণ পদ্ধতি সমালোচনামূলক এবং ফলাফল খুবই উত্তেজনাপূর্ণ মনে হলেও, আমি মনে করি এর ফলে ক্যানসারে মৃত্যুহারের ওপর একটা বিশাল প্রভাব ফেলবে। আগে ক্যানসার শনাক্তকরণে পাঁচটি থেকে আটটি ধরণ বের করার জন্য কোন স্ক্রীনিং প্রোগ্রাম ছিল না।
এই বিষয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে ড. ক্রিসটিয়ান বলে, অগ্ন্যাশয় ক্যানসার নির্ণয় করার খুব কম লক্ষণ আছে। পাঁচ বছরে মাত্র চারজন রোগীর ক্যানসার নির্ণয় করা হয়।
ডাঃ টমাসেটটি বলেন, এই ক্যানসার খুঁজে বের করে অপারেশন করতে করতে অনেক সময় রোগী মারাও যায়। কিন্তু পরীক্ষামূলক ভাবে এই গবেষণা যাদের ক্যানসার ধরা পড়েনি তাদের মধ্যেও করা হচ্ছে।
তবে এই রক্ত পরীক্ষার মধ্য দিয়ে আশা করা যাচ্ছে স্তন ক্যানসার, কোলন ক্যানসারের মত মরণব্যাধি ক্যানসার শনাক্ত করা যাবে। আমরা বছরে একবার করে এই রক্ত পরীক্ষা করতে পারি।








