সড়ক যোগাযোগ থাকা এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছলেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকার বন্যদুর্গতরা ত্রাণ পাচ্ছেন না। তারা বলছেন, পানি পার হয়ে ত্রাণ আনতে যাওয়া অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয়ে ওঠে না। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা নারী ও শিশুদের।
কুড়িগ্রামে নতুন করে পানি না বাড়লেও অনেক এলাকা এখনো ডুবে রয়েছে। বানভাসি মানুষ উঁচু বাঁধ, পাকা সড়ক এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। প্রবল স্রোতে অনেক এলাকার বাঁধ ভেঙে গেছে। পানিবন্দি হয়ে আছে ছয় লাখেরও বেশি মানুষ।
মহাসড়কের পাশে যারা আশ্রয় নিয়ে আছেন তাদের কাছে ত্রাণ সাহায্য পৌঁছুলেও যারা একটু দূরে তারা ত্রাণ পাচ্ছেন না।
জেলার নন্দা দুলালের ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ এখনো পানির নিচে। নিচতলাতেও পানি ছুঁই ছুঁই। এখানে চারটি পরিবারের নারী ও শিশু আশ্রয় নিয়েছেন। বাড়ি পানিতে ডুবে যাওয়ায় এখানে এসেছেন তারা।
রাস্তা পর্যন্ত সাহায্য নিয়ে লোকজন আসে। স্কুল ভবন পর্যন্ত সেই সাহায্য পৌঁছায় না বলে জানান সেখানে আটকে থাকা মানুষেরা। এখন পর্যন্ত মাত্র দু’দিন কিছু চিড়া পেয়েছেন। নৌকা নিয়ে এসে ত্রাণ দিয়ে গেলে অনেক উপকার হতো বলেও উল্লেখ করেন আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলোর সদস্যরা।
প্রশাসন বলছে, ত্রাণের কোনো অভাব নেই। কুড়িগ্রাম অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আক্তার হোসেন আজাদ জানান, মন্ত্রণালয় থেকে নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে, চাওয়া মাত্রই ত্রাণ সহায়তা দেয়া হবে এবং এ পর্যন্ত চেয়ে পেয়েছেনও। সকালে সাহায্য চেয়ে ফ্যাক্স করলে বিকেলেই বরাদ্দ চলে আসছে বলে জানান তিনি।
আশপাশের বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই এখন বন্ধ। আর উঁচুতে থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।







