আইপিএল আট থেকে বিদায় নিয়েছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন সাকিব আল হাসানের কলকাতা নাইট রাইডার্স। শনিবার রাজস্থান রয়্যালসের কাছে হারের পর অনেকটা নিশ্চিত হয় কেকেআরের বিদায়। যেটুকু বাকি ছিল তার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয় সান রাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে মুম্বাই ইন্ডিয়াসনসের জয়ের মাধ্যমে। গত আসরে শিরোপা জয়ের পরে নাইট অধিকর্তা কিং খানের জমকালো উদযাপন চোখে পড়লেও, এবার শুধুমাত্র টুইটারে একটি জোকস শেয়ার করেই বিদায়বরণ করেছেন তিনি।
বেশ কয়েকটি কারণে এবারের আইপিএলে প্লে-অফের আগেই ছিটকে যেতে হয়েছে নাইট রাইডার্সকে। কিছু কৌশলগত ভুল ও ম্যাচভাগ্য কাজ করেছে এর পেছনে।
নারিন জট আইপিএলের শুরুতে পুরো দলের ওপর প্রভাব ফেলেছে। বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দিয়ে ফিরে নারিনের ঘূর্ণি জাদু আর আগে মতো থাকেনি। আইপিএল-৭ এ কেকেআর যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো তার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বাংলাদেশের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সাকিব দলে থাকা মানে ব্যাটিংয়ে মিডল অর্ডার শক্তিশালী হওয়া, সেইসাথে কৃপণ চার ওভার বোলিং। সেই সাকিবকেই এবার সাত-আটটা ম্যাচে পায়নি কেকেআর। সে ম্যাচগুলোতে হেরে যায় কেকেআর।
এই আসরে ব্যাটিং নিয়েও অতিরিক্ত পরীক্ষা-নীরিক্ষা করেছে কেকেআর। তাছাড়া গুরুত্বপূর্ণ শেষ ম্যাচে চায়না ম্যান ব্র্যাড হগ অথবা পিযুষ চাওলাকে না খেলিয়ে আজহার মেহমুদকে খেলানোর পরীক্ষা তাদের জন্য ফল নিয়ে আসেনি।
এবার ম্যাচের ভাগ্যটাও তাদের পক্ষে ছিল না। বেশ কয়েকটি ম্যাচ জিততে জিততে হেরেছে তারা। তিন তিনটি ম্যাচ ভেসে যায় বৃষ্টিতে, যেগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছিলো ইডেনে। ওই ম্যাচগুলোতে কলকাতারই জয়ের সম্ভাবনা ছিলো বেশি।
নারিন-সাকিবের অনিয়মিত উপস্থিতির পরও বেশ কিছু ইতিবাচক খেলা উপহার দিয়েছেন নাইটরা। হগ-চাওলার দুরন্ত বোলিংয়ের সঙ্গে অসাধারণ অলরাউন্ড ক্রিকেট উপহার দিয়েছেন ক্যারিবীয় তারকা আন্দ্রে রাসেল। তবে শেষ রক্ষা হয়নি নাইটদের, মেনে নিতে হয়েছে অষ্টম আসর থেকে খালি হাতে বিদায়কে।
এবারের আসরে নাইটদের কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা:
হাই পয়েন্ট: দলে ফিরে কিংস ইলিভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে নিজেকে প্রথম খুঁজে পান নারিন। ম্যাচে ১৯ রানে চার উইকেট নেন ক্যারিবীয় স্পিনার। তবে ওই ম্যাচে ১৮৪ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৮৩ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে নাইটরা। পরে অবশ্য রাসেলের অতিমানবীয় ইনিংসে ভর করে জেতে তারা।
লো পয়েন্ট: মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ম্যাচে জয়ের জন্য শেষ ওভারে ১২ রান দরকার ছিল কেকেআরের। ম্যাচ জিতলেই প্লে-অফ নিশ্চিত। কিন্তু ইউসুফ পাঠান ও পিযুষ চাওলা থেমে যান পাঁচ রান বাকি থাকতেই।
ব্যক্তিগত অর্জন: এবারের আসরে ব্যক্তিগত অর্জনের দিক দিয়ে নাইটদের একনম্বর তারকা আন্দ্রে রাসেল। ১৯২ দশমিক ৮৯ স্টাইক রেটে ৩২৬ রান করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে ১৪ উইকেট নিয়ে দলের সেরা বোলারও তিনি।
ধারাবাহিক পারফর্মার: কলকাতার হয়ে আইপিএল আটে ধারাবাহিক পারফর্ম করেছেন ওপেনার রবিন উথাপ্পা। এই আসরে ৩০০ রান করেছেন তিনি। প্রতিটি ম্যাচেই কেকেআরকে একটা ভালো শুরু এনে দিয়েছেন উথাপ্পা।
লক্ষ্য ২০১৬: এবারের আসর থেকে প্লে-অফের আগে বিদায় নিলেও ২০১৬তে চোখ কেকেআরের। নারিনের স্পিন শক্তি, সাকিবের অলরাউন্ড পারফর্মেন্স, কুলদ্বীপ যাদব ও কেসি কারিপ্পার মতো তরুণদের ওপর ভর করে আগামী মৌসুমের ছক কষা শুরু করেছে বলিউড বাদশাহ’র নাইট রাইডার্স।







