ধর্মশালা, হিমাচল প্রদেশ (ভারত): হাইভোল্টেজ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আর হচ্ছে না ধর্মশালায়। ১৯ মার্চ এখানে এই ম্যাচটি হবার কথা ছিলো। কিন্তু অনেক টানাপোড়েনের পর নিরাপত্তার কারণে ম্যাচটি কলকাতায় স্থানান্তরের ঘোষণা দিয়েছে আইসিসি।
ম্যাচটি এখান থেকে সরিয়ে নেয়ায় হায় হায় করে হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাদের অনেক আশা ছিল ম্যাচটি উপলক্ষে অনেক লোকজন ধর্মশালা আসবেন। ব্যবসা-বেচাবিক্রি অনেক ভালো হবে। ট্যুরিজম বুম ঘটবে রাজ্যের অর্থনীতিতে। কিন্তু সব আশা তাদের ধুলোয় মিশেছে। এর জন্যে তারা স্থানীয় রাজনীতিকে দায়ী করেছেন।
স্থানীয় ওয়াকিফহালরা জানেন ম্যাচটি তদবির করে ধর্মশালায় নিয়ে এসেছিলেন স্থানীয় জনপ্রিয় তরুণ রাজনীতিক অনুরাগ ঠাকুর এমপি। ইনি রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক। হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট এসোসিয়েশনের নেতৃত্বেও আছেন। অনুরাগের বাবা হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় অপরূপ সুন্দর স্থাপত্য নকশার ধর্মশালা স্টেডিয়ামটি নির্মিত হয়।
কিন্তু স্থানীয়রা বলছেন, রাজ্যের বর্তমান কংগ্রেসীয় মুখ্যমন্ত্রী বীর ভদ্র সিংহ যে ম্যাচটির বিরোধিতা করেছেন এর পেছনে রাজনীতি বড় ফ্যাক্টর হিসাবে কাজ করেছে! বীর ভদ্র হয়তো ভেবেছেন এখানে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের মতো বড় একটি ইভেন্ট হয়ে গেলে অনুরাগের জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যাবে! সে জন্যে পাঠানকোট এয়ারবেইসে সর্বশেষ জঙ্গি হামলার কথা বলে ম্যাচটির বিরোধিতা করেছেন বীর ভদ্র!
রাজ্যের পুলিশ যেহেতু বীর ভদ্র’র অধীন তাই তারাও তার পক্ষে রিপোর্ট দিয়েছে! অতঃপর ম্যাচটি যে আর ধর্মশালায় হচ্ছে না সে খবর এখানে বুধবার ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে হতাশা দেখেছি সবখানে।
ট্যুরিজম ধর্মশালার আয়ের বড় একটি উৎস। স্থানীয় এক ট্যুর অপারেটর নীতিশ কুমার বললেন, আমরা অনেকগুলো বড় বুকিং পেয়েছিলাম। অনেক হোটেল, গাড়ির ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছিলো। স্থানীয় হোটেল রেস্টুরেন্টগুলোয় অনেক বেচাবিক্রি হতো। কিন্তু সব মাটি করে দিলো রাজনীতি!
ধর্মশালার কোতয়ালি বাজারের দোকানগুলোর সামনে ভারতীয় দলের জার্সির পসরা সাজানো হয়েছিলো। সেগুলোর দিকে আঙ্গুল উঁচিয়ে দেখিয়ে এক ব্যবসায়ী বললেন, আমি নিশ্চিত এর একটিও আর বিক্রি হবে না। এমন যে ক্ষতি হয়ে গেলো আরও কতো সেক্টরের তা বলে শেষ করা যাবে না।
ম্যাচটি কলকাতায় স্থানান্তরের ঘোষণা আসার পর মুখ্যমন্ত্রী বীর ভদ্র সিংহ অবশ্য বলেছেন, আমরা ম্যাচটির নিরাপত্তা দিতে পারবো না এমন কখনো বলিনি, শুধু সবাইকে সতর্ক করেছিলাম ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে কোনো জঙ্গি হামলা যাতে না হয়।







