‘যা ঘটার, প্রস্তুতিতেই ঘটে গেছে! ওটা কোন বিষয় নয়! কোচ ওটা নিয়ে কোন কথাই বলেননি! আশা করি শিক্ষাটা নিয়ে মূল ম্যাচে কাজে লাগাবে ছেলেরা।’
কথাগুলো দলের দিক থেকে বলা, সাড়ে তিনশর কাছে সংগ্রহ গড়ে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে হার, আর পরেরটিতে ভারতের বিপক্ষে ৮৪ রানে অলআউট হওয়ার পর।
কিন্তু আসলেই কি সেই ব্যাটিং ব্যর্থতা আত্মবিশ্বাসে কোন দাগ কাটেনি? ভারত ধাক্কার পরও জিতব, এটা যদি দল সত্যিই বিশ্বাস করে থাকে, তাহলে আট ব্যাটসম্যান নামানোর সিদ্ধান্ত কেন? তাতে একজন স্পেশালিষ্ট বোলার কম খেলিয়ে বিপদ বাড়িয়েছে ম্যানেজমেন্ট। অবশ্য ছন্নছাড়া এমন বোলিং প্রদর্শনীর দিনে ওই একজন বোলারই বা কি এমন পাল্টে দিতেন সব!
একাদশ ঘোষণার পর ওপরের দিকে ইমরুলকে দেখে শুরুতে সবাই হয়তো ভেবেছিলেন সাব্বিরের কপাল পুড়ল। কিন্তু স্কোয়াডের নিচের দিকে নামতে নামতে দেখা গেল কপাল পুড়েছে আসলে মিরাজের। কেননা দল ভেবেছে ব্যাটিংয়ে শক্তিটা আরো বাড়ানো দরকার। তাই একজন স্পেশালিষ্ট বোলার বা অলরাউন্ডারের চেয়ে একজন স্পেশালিষ্ট ব্যাটসম্যান খেলানোই সঠিক সিদ্ধান্ত।
সেই চিন্তা থেকেই নিশ্চয় দলে ইমরুল। ইমরুল একেবারে খারাপও করেননি। তামিমের সঙ্গে ৩৯ রানের জুটিতে মহামূল্যবান ১৯ রানের অবদান তার! এই অবদানটুকু রাখার সুযোগ তিনি কিভাবে কেন পেলেন, সেটা নিয়ে ভাবার কাজটাও তার নয়। প্রস্তুতিতে রান করে দাবিটা জানিয়ে রেখেছিলেন। ম্যানেজমেন্ট প্রয়োজন মনে করায় খেলিয়ে দিয়েছে। সেটা দোষের কিছু নয়। নিখাদ ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তো আলোচনারই কোন বিষয় নয়!
কিন্তু আলোচনাটা তখনই বড় হয়ে আসছে যখন ইমরুলকে খেলানোয় বাদ দিতে হয়েছে একজন অলরাউন্ডার বা স্পেশালিষ্ট বোলারকে। সেটি কে? সাঞ্জামুলের মত স্পিনার, তাসকিনের মত পেসার বা মিরাজের মত অলরাউন্ডার। এই মিরাজ নামটাই আলোচনাটা বড় করে তুলছে।
কেন, কি জন্য, সেটা একটু ঘেঁটে দেখা যাক।
ইংল্যান্ড ৩০৬ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করে ৮ উইকেটে জিতেছে। অনেকটা হেসেখেলেই। দলীয় ষষ্ঠ রানে প্রথম উইকেট হারানো পর তাদের হেলেদুলে রান তাড়ায় এগিয়ে যাওয়া দেখে প্রশ্ন জাগছেই, বাংলাদেশের একাদশ নির্বাচন কতটা সঠিক ছিল? প্রতিপক্ষের ব্যাটিং গভীরতা কি টিম ম্যানেজমেন্ট জানত না? তাদের আউট করতে কি চার বোলার আর গুটিকয় পার্টটাইমারই যথেষ্ট ভেবেছিল তারা?
ভেবে থাকবে হয়তো! তাই ব্যাটিং লাইনআপ লম্বা করতে যেয়ে কোপটা পড়ল বোলিং শক্তিতে! ব্যাটিংয়ে থাকল রক্ষণাত্মক কৌশল। অথচ দিন যায় খারাপ যেদিন, দশ ব্যাটসম্যানেও টানে না রানের গতি। ভালো গেলে তো টপ-মিডল দিয়েই রান বন্যা হয়। তাই হয়তো তামিম ও মুশফিকের রেকর্ড ১৬৬ রানের জুটির পরও শেষ পাঁচ ওভারে এল মাত্র ৪৩ রান। মোসাদ্দেককে ব্যাটিংয়ে আসতে হল আট নম্বরে। সেখানে মিরাজই খেলতে পারতেন। কয়েকটা রান প্রয়োজন হলে এই তরুণ করে দিচ্ছেন গত কিছুদিন ধরেই। তার কাছে বোলিংটাও পাওয়া যেত বাড়তি। ভারতের বিপক্ষে বিধ্বস্ত হওয়া গত ম্যাচেও স্লগ ওভারে বল হাতে নিয়ে ৯ ওভারে মাত্র ৩৯ রান দিয়েছিলেন মিরাজ। এই মিরাজই ইংলিশদের ঘরের মাঠে নাকানিচুবানি খাইয়ে ছেড়েছিলেন। তাদের একটু বাড়তি স্নায়ুচাপেও ফেলা যেত।
ওভালে মঈনের ৮ ওভারে ৪০ রান, পার্টটাইমার জো রুটের ৩ ওভারে দেয়া ১৮ রান মিরাজের কথা মনে করিয়ে দিতে বাধ্য। সেখানে অনেকটা ভরসা করতে হয়েছে ঘুমিয়ে থাকা সাকিবের ঘূর্ণির দিকে তাকিয়ে, আর মোসাদ্দেকের বোলিং দেখে যা খুশি মনে করা যায় অবস্থা, মাহমুদউল্লাহ তো সেখানে কেবল শুধু ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টেই বল করেন! সাব্বির-সৌম্য মিলে করলেন ৩ ওভার। এই জায়গাতেই পরিষ্কার হয়, অভাবটা কোথায় বুঝেছেন মাশরাফি।
যেখানে নিয়মিত বোলারদের কেউ খারাপ করলে পার্টটাইমারদের দিয়ে কাজ চালিয়ে ৫০ ওভার পূরণ করা হয়, সেখানে দল নামলই পার্টটাইমারদের ওপর ভরসা করে। বোলিংয়ে এমন বোলারদের কাছে যখন মূল ভূমিকা রাখতে চাওয়া হয়, তখন আসলেই প্রশ্ন জাগে, সত্যিই কী পরিকল্পনা এঁটেছিল বাংলাদেশ? প্রশ্নটা থাকে একজন বোলার কম নিয়ে নামার অর্থ কি? আট ব্যাটসম্যানে চারশ করবে, পরে ১১জনে হাত ঘুরিয়ে যাবে, আর প্রতিপক্ষ জয়ের টিকিটিও ধরতে পারবে না?
অথচ কত কাব্যই না লেখার পরিকল্পনা ছিল তামিম-মুশফিক বীরত্বের পর।








