টাঙ্গাইলে র্যাবের জঙ্গি বিরোধী অভিযানে গুলিতে দুই জঙ্গি নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে দুই র্যাব সদস্য। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পৌর শহরের কাগমারা এলাকার একটি বাড়িতে অভিযানকালে এ ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিকভাবে নিহতদের নাম পরিচয় জানাতে পারেনি র্যাব। তবে জানিয়েছে, নিহত দুই জঙ্গি নব্য জেএমবি’র সক্রিয় সদস্য। তাদের লাশ পরিচয় শনাক্ত ও ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে টাঙ্গাইল অভিযান সম্পর্কে র্যাব-১২ এর কমান্ডার এ্যাডিশনাল ডিআইজি মো. শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টাঙ্গাইল পৌর শহরের কাগমারা এলাকায় মির্জামাঠ সংলগ্ন তিন তলা ভবনের নীচতলায় র্যাবের একটি দল অভিযান চালায়। এসময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্দেহভাজন জঙ্গিরা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে শ্লোগান দিয়ে গুলি চালায়।
এতে দুই র্যাব সদস্য আহত হয়। আহতরা হলেন কর্পোরাল সাইফুল ইসলাম ও কনস্টেবল রেজাউল করিম। তাদেরকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এসময় পাল্টা জবাবে র্যাবও গুলি চালালে দুই জঙ্গি ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। এরপর ভবনের ভেতরে আরও লোকজন অথবা ধ্বংসাত্মক কোন কিছু থাকতে পারে এমন আশঙ্কায় বিকেল ৩টা পর্যন্ত বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়। পরে র্যাবের বোমা বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌছে বাড়িটি তল্লাশি করেন। এসময় নিহত ওই দুই জঙ্গীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হলেও জীবিত আর কাউকে পাওয়া যায়নি।

তবে ঘটনাস্থল থেকে ১০টি চাপাতি, ১ রিভলবার, ১ পিস্তল, ২টি ডেগার, ২টি ল্যাপটপসহ, ২টি মোবাইল সেট ও নগদ প্রায় ৬৪ হাজার ৯৬২ টাকা উদ্ধার করা হয়।
র্যাব আরো জানায়, পূজা, আশুরা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জঙ্গিরা যে কোন ধরনের নাশকতার ঘটনা ঘটাতে পাড়ে এমন আশঙ্কায় সারা দেশে জঙ্গি বিরোধী অভিযান চলছে। বিভিন্ন জায়গায় আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি করা হলে এরই ধারাবাহিকতায় র্যাবের গোয়েন্দা জালে এ জঙ্গিদের আস্তানার খবর পাওয়া যায়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উপস্থিত ছিলেন, র্যাব-১২, সিপিসি-৩ এর কোম্পানী কমান্ডার এএসপি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী বিপিএম, অপারেশন অফিসার এএসপি হাফিজুল ইসলাম, এএসপি এন্ড্র কেনেট রোজরিও প্রমুখ।
অন্যদিকে বাড়ির মালিক আজাহার আলী মাস্টার বলেন, গত ২৭ সেপ্টেম্বর বগুড়া নিবাসী দুইজন যুবক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কোচিং করবে বলে আমার কাছে বাসা ভাড়া চায়। আমার তিনতলা নতুন ভবনের নিচতলার একটি রুম তিন হাজার টাকা ভাড়ার বিনিময়ে তাদেরকে থাকতে দেই।
তিনি আরো বলেন, আমি পরিবার নিয়ে অন্য স্থানে থাকি। এছাড়া ‘আমি একটি কাজে কয়েকদিন বাড়ির বাইরে থাকার কারণে তাদের জীবন বৃত্তান্ত নেওয়া হয়নি। আজ (শনিবার) তাদের জীবন বৃত্তান্ত জমা দেয়ার কথা ছিলো। তবে তার আগেই র্যাব আমার ওই বাসাটি তল্লাশি করতে চাইলে, আমি তাদেরকে সেখানে নিয়ে গিয়ে রুমটি দেখিয়ে দেই। পরে র্যাব সেখানে অভিযান চালায়।








