বাংলাদেশ

যেভাবে কাদের মোল্লার ফাঁসি

যেভাবে কাদের মোল্লার ফাঁসি

অনলাইন ডেস্ক: একাত্তরে মানবতাবিরোধী
অপরাধে প্রথম ফাঁসি কার্যকর করা হয় রাজাকার কাদের মোল্লার। কাদের মোল্লাকে ফাঁসিতে
ঝোলানো হয় ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর রাতে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জল্লাদ শাজাহান ভূঁইয়ার
নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি দল সেদিন ফাঁসি কার্যকর করে। কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন),
ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন, একজন চিকিৎসক, দুইজন ম্যাজিস্ট্রেট, একজন মাওলানা এবং ইমামের
উপস্থিতিতে যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতার পর রায় কার্যকর করা হয়।

এর আগে ২০১২ সালের
৫ ফেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধে রাজাকার কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন সাজা দেয় আন্তর্জাতিক
অপরাধ ট্রাইবুনাল-২। রায়ের পর সাধারণ মানুষ বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া
সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা সেদিন বিকাল থেকে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে জড়ো হতে থাকে। সাধারণ
মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শাহবাগ চত্বরে গড়ে ওঠে গণজাগরণ মঞ্চ।

গণদাবির মুখে
সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিটি) আইন সংশোধন করার উদ্যোগ নেয়। ১৭ ফেব্রয়ারি
আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনালস) সংশোধন বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়। এই সংশোধনের ফলে ট্রাইবুনালের
রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল করার সুযোগ তৈরী হয়। এরপর ৩ মার্চ কাদের মোল্লার
সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

পরদিন ৪ মার্চ
সাজা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আপিল করে আসামী পক্ষ। ১ এপ্রিল থেকে আপিলের শুনানি শুরু হয়।
শুনানি শেষ হলে ১৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ
মতামতের ভিত্তিতে কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এরপর ৫ ডিসেম্বর রায়ের পূর্ণাঙ্গ
কপি প্রকাশিত হয় এবং অনুলিপি ট্রাইবুনাল দপ্তর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কারাকর্তৃপক্ষের
কাছে পাঠানো হয়। 

৮ ডিসেম্বর ঢাকা
কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাদের মোল্লার মৃত্যু পরোয়ানা পাঠায় আন্তর্জাতিক অপরাধ
ট্রাইবুনাল-২।  ১০ ডিসেম্বর কাদের মোল্লার স্ত্রীকে চিঠি পাঠায় কারা কর্তৃপক্ষ। সেদিন
রাত আটটার সময় আত্মীয়-স্বজনরা তার সাথে দেখা করতে আসে। ওই রাতেই তৎকালীন স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী
এবং আইন প্রতিমন্ত্রী জানান, ১০ ডিসেম্বরেই রাত ১২ টা ১ মিনিটে কাদের মোল্লার ফাঁসি
কার্যকর করা হবে। তবে ঘোষিত সময়ের দেড় ঘণ্টা আগে ফাঁসির রায় কার্যকর স্থগিত করেন চেম্বার
বিচারপতি। তিনি ১১ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত রায় কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়ে
শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান। ১২ ডিসেম্বর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে
পাঁচ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ কাদে
র মোল্লার রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেন। ফলে রায় কার্যকরে
আইনগত কোন বাধা নেই বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে আবারও
তাদেরকে ওইদিন সন্ধ্যায় কাদের মোল্লার সাথে সাক্ষাতের অনুমতি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। এরপরেই
ফাঁসি কার্যকরের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।     

বিষয়:কাদের মোল্লা মানবতাবিরোধী অপরাধ

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…