মেসি-সুয়ারেজ-নেইমার। তিনজনে মিলে বার্সেলোনায় গড়ে তুলেছেন ‘এমএসএন’ জুটি। বার্সার তো বটেই, ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা আক্রমণ জুটির খেতাব জুটেছে এই ত্রয়ীর! মাত্র তিন মৌসুমে ২৫০ গোল এসেছে তিনজনের থেকে। গোল করানোর ক্ষেত্রেও একে অপরকে সাহায্য করেছেন সমানভাবেই।
বার্সা ছেড়ে নেইমারের পিএসজিতে চলে যাওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। তাতে ভেঙে যেতে বসেছে এমএসএন ত্রয়ীর বন্ধন। ২২২ মিলিয়ন রেকর্ড চুক্তিতে কাতালানদের ছেড়ে ফরাসী জায়ান্টদের জার্সি গায়ে চাপাবেন নেইমার। পেছনে ফেলে যাবেন অনেক স্মৃতি, ইতিহাস আর রেকর্ড।
নেইমারের এই চলে যাওয়ায় কতটুকু ক্ষতি হবে বার্সার? সবচেয়ে বড় বিষয় ব্রাজিলিয়ান সতীর্থের অভাব কতটুকু বোধ করবেন মেসি-সুয়ারেজ?
পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, গোল করার জন্য নেইমারের সহযোগিতার অভাব ভীষণভাবে বোধ করবেন মেসি এবং সুয়ারেজ। ২০১৪ থেকে ২০১৭, এই তিন মৌসুমে সুয়ারেজের চেয়ে কম গোলের যোগানদাতা হলেও প্রতি বছরই নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। ২০১৬-১৭ মৌসুমে মেসিও পেরে উঠেননি তার সঙ্গে।
২০১৪-১৫ মৌসুমে নেইমার-সুয়ারেজদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রে মেসির অবদান ছিল ১৩ বার, সুয়ারেজ দিয়েছেন ১১টির যোগান, আর নেইমার গোলে সহায়তা করেছেন ৫ বার। পরের মৌসুমে মেসির অ্যাসিস্ট ছিল ১২ গোলে, নেইমারের ১০টি এবং সুয়ারেজের ১২টিতে। ২০১৬-১৭ মৌসুমে নেইমারের অ্যাসিস্ট ছিল ৮ গোলে, সুয়ারেজের ৯টি এবং মেসির ৫টিতে।

শুধু মাত্র মেসি-সুয়ারেজদের দিয়ে নয়, বার্সার অন্য সতীর্থদের দিয়েও সমানভাবে গোল করিয়েছেন নেইমার। তিন মৌসুমে ৩০টি গোল অ্যাসিস্টের মধ্যে মেসিকে দিয়ে করিয়েছেন ১১টি, সুয়ারেজকে দিয়ে ১২টি এবং অন্য সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৭টি।

২০১৪ থেকে ২০১৭ মৌসুমের মাঝ সময়টা পর্যন্ত মেসি গোল করেছেন ১০৬টি। যার মাঝে নেইমারের সরাসরি পাসে গোল ছিল ১১টি এবং গোলের সুযোগ তৈরিতে কোনও না কোনও ভাবে অবদান ছিল ১০০টিতে।
তিন মৌসুমে সুয়ারেজ গোল করেছেন ৮৫টি। যার ১২টি এসেছে নেইমারের সরাসরি পাসে এবং গোলের সুযোগ তৈরিতে অবদান ছিল আরও ৪৯টিতে।

গোল করার ক্ষেত্রে একে অপরের ওপর বেশ নির্ভরশীল এমএসএন ত্রয়ী। তিন মৌসুমে মেসি মোট সুযোগ তৈরি করেছেন ২৫১টি। যার মধ্যে নেইমার-সুয়ারেজদের জন্য পাস ছিল ১৩৮টিতে।
নেইমারের তৈরিকৃত সুযোগের সংখ্যা ছিল ২৪৫টি। মেসি-সুয়ারেজদের জন্য পাস ছিল ১৪৯টিতে। আর সুয়ারেজের সংখ্যাটা সেখানে ১৭৭টি, যার মধ্য ১২৫টিই মেসি-নেইমারদের জন্য।

সান্তোস থেকে ২০১৩ সালে বার্সায় এসে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে বার্সেলোনার হয়ে এপর্যন্ত ১০৫টি গোল করেছেন নেইমার। কাতালান ক্লাবটির হয়ে দুটি লা লিগা, তিনটি কোপা ডেল রে ও একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ মোট আটটি শিরোপা জিতেছেন নেইমার।
২০১৫ সালের বর্ষসেরা ফুটবলার হওয়ার লড়াইয়ে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পেছনে থেকে তৃতীয় হন ব্রাজিলের এই ফরোয়ার্ড। গত অক্টোবরে কাতালান ক্লাবটির হয়ে পাঁচ বছরের নতুন চুক্তিতেও এসেছিলেন ব্রাজিলিয়ান ওয়ান্ডার বয়।
*পরিসংখ্যান ও উপাত্ত বিশ্লেষণ চিত্র বিবিসির সৌজন্যে।







