কাল থেকে ভারতের বিপক্ষে যে ক্রিকেট সিরিজটা খেলতে নামছে বাংলাদেশ তা খেলা শব্দকে ছাড়িয়ে গেছে অনেক দূর। টেস্ট দিয়ে শুরু ওয়ানডে’ দিয়ে শেষ এই সিরিজে অনেক কিছুই দেখতে চাইছে দুই দেশের মানুষ।
এদিক থেকে বাংলাদেশ অবশ্য অনেক এগিয়ে। ভারতের কাছে ব্যাপারটা বরাবরের মতো সম্মান ধরে রাখার। নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব নতুন করে জাহির করার, দাদাগিরি দেখানোর সুযোগ নেওয়ার।
বাংলাদেশের জন্য সবার আগে তা ‘প্রতিশোধের’। এই দেশের মানুষের মনে প্রতিশোধের যে তীব্র আগুন জ্বলছে মার্চের ১৯ থেকে, অস্ট্রেলিয়ায় হওয়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার থেকে – বস্তুত তা নেভাতেই মাঠে নামছে আমাদের ক্রিকেট দল।
মেলবোর্ণে খুব নির্যাতিত হয়েছিলো বাংলাদেশ । আম্পায়ারদের হাতে, আইসিসি’র হাতে, ইন্ডিয়ার হাতে। ভারতের কাছে ১০৯ রানে ম্যাচ হেরে যাওয়াটা অপমানের কারণ না। কারণ আইসিসি নিয়ন্ত্রিত আম্পায়ারিং। আর পর্দার সামনে -পিছনে ভারতই তো আইসিসি’র প্রধান নিয়ন্ত্রক।
শুধু বাংলাদেশের না বিশ্বের অনেক দেশের ক্রিকেটজীবি মানুষের বদ্ধমূল ধারণা, সেদিন জোর করে হারানো হয়েছিলো উদীয়মান শক্তি বাংলাদেশকে। এই জোর করে হারানোর পিছনে আর কেউ না- ছিলো ভারত নামের দেশ । মানুষের এই বদ্ধমূল বিশ্বাসকে অযৌক্তিক বলে উড়িয়েই দেবেন কী করে! সেদিনের খেলাটা তো রেডিওতে শোনেনি সারাবিশ্ব, দেখেছে টিভিতে। মাঠে কি হয়েছে, কেনো হয়েছে তার সবইতো চাক্ষুষ।
যে কোনো ফরম্যাটের ক্রিকেটেই বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকা দল ভারত – এটা যে ক্রিকেট বোঝেনা সেও বোঝে। তবে সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যে কাউকে খুব একটা জমা-খরচ দেয় না তা ভারতও বোঝে। তা নইলে ইতিহাসে প্রথমবার ওয়ান অন ওয়ান সিরিজে তাদের সেরা দল পাঠাবে কেনো। এই ভারতই তো এক বছর আগে ‘এ’ টিম টাইপের একটা দল ঢাকায় পাঠিয়ে হেসেখেলে সিরিজ জিতে নিয়ে গিয়েছিলো।
বাংলাদেশের বিপক্ষে যা-তা দল পাঠানোর সেই প্রতিষ্ঠিত সাহসটা ভারত যে হারিয়ে ফেলেছে দেখতে দেখতে। নতুন সিরিজ শুরুর আগে এটা একধরনের মনস্তাত্তিক জয় বাংলাদেশের জন্যে। বাকিটা করতে হবে মাঠেই, যা সহজ হবে না একদমই। পাকিস্তান যে দল পাঠিয়েছিল ক’দিন আগে তারচে’ অনেকবেশি প্রফেশনাল, অনেকবেশি ব্যালান্সড এই ভারতীয় দল। এই দলকে হারাতে হলে অনেক বেশি ঘাম ঝরাতে হবে আমাদের।
তবে বাংলাদেশের জন্য সবচাইতে পজিটিভ ব্যাপার হচ্ছে বিশ্বকাপ ও পাকিস্তান সিরিজের পারফরম্যান্স এবং তা থেকে অর্জিত আকাশছোঁয়া আত্মবিশ্বাস। সদ্য পাওয়া এই জোশটার সঙ্গে যদি ভালো খেলা যোগ হয়ে যায় তাহলে সত্যি সত্যিই বিপদ আছে ভারতের।
বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা অন্য দলের মতোই প্রফেশনাল। তাদের অনেকেই বা কেউ কেউ হয়তো স্রেফ খেলা হিশেবেই নেবেন বাংলা-ভারত সিরিজটা। অতীতের অনেক কিছু ভুলে গিয়ে স্পোর্টসম্যান স্পিরিট নিয়ে জেতার জন্যেই মাঠে নামবেন। আমাদের আপামর জনসাধারন, ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এই সিরিজ কেবলই এক যুদ্ধ। বদলা নেওয়ার উপলক্ষ্য। তিন মাস ধরে বয়ে বেড়ানো যন্ত্রণা আর অস্বস্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার মোক্ষম সুযোগ।
বাংলাদেশ হয়তো পারবে শেষ পর্যন্ত ,হয়তো পারবে না …তাতে কি। জাতে উঠে গেছে আমাদের ক্রিকেট, যেভাবে বিজ্ঞাপনের জোয়ারে ভাসছে ভারতীয় সব প্রচার মাধ্যম! লাগে যেনো অস্ট্রেলিয়া বা পাকিস্তানের সঙ্গে খেলতে যাচ্ছে তারা।
শেষ কথা, ফতুল্লায় কি হবে জানিনা, মিরপুরে বাঘের ডাক শুনবে ‘মহা’ ভারত – এমন ভাবতে একটুও কষ্ট হচ্ছে না আমার।






