মিয়ানমার যুদ্ধের উস্কানি দিচ্ছিল শুরু থেকেই। আগেপিছে না ভাবলে সেটায় জড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশ সেটা করেনি। না করার কারণ: রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের পরিপক্কতা এবং মানবিকতা। দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেটা আরো একবার পরিস্কার করলেন। এজন্য তাকে আমরা ধন্যবাদ জানাই, অভিনন্দন জানাই। মিয়ানমারের নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের মধ্যে যুদ্ধের উস্কানি থাকলেও সতর্ক থেকে তিনি তা এড়িয়েছেন। গণমাধ্যমের খবর থেকে জানা যায়: বিমানবন্দরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমাদের একেবারে প্রতিবেশী…একটা পর্যায়ে এমন একটা ভাব দেখাল; আমাদের সঙ্গে যুদ্ধই বেঁধে যাবে.. এরকম একটা। আমাদের সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড, পুলিশ সকলকে সতর্ক করলাম; যে কোনোমতেই কোন রকম উস্কানির কাছে তারা যেন বিভ্রান্ত না হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত আমি নির্দেশ না দেব।’ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কেউ ভুলেও বিভ্রান্তিতে পড়েননি। যে কারণে সম্ভাব্য একটা বড় সংকট এড়ানো গেছে। মিয়ানমারের উস্কানিতে পা দিলে একদিকে যেমন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে বড় ধরনের সংঘাতে জড়াতে হতো, তেমনি লাখ লাখ যে রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে পেরেছে তারা সেটা পারতো না, গণহারে মরতে হতো তাদের। এভাবে একদিকে পরিপক্কতা দেখানোর পাশাপাশি লাখো মানুষের জীবনও রক্ষা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্য তাকে আমরা ধন্যবাদ জানাতে চাই। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে রোহিঙ্গা ইস্যুটি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার জন্যও আমরা প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাই। আমরা আশা করি, কূটনীতিতেও উপযুক্ত পরিপক্কতা দেখিয়ে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে পারবে।







