অান্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ে যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির সাজা কার্যকর হলেও বাজারে এখনও তার লেখা বই ছড়াচ্ছে স্বাধীনতা বিরোধী মতাদর্শ। এবারই প্রথম নয় এর আগেও যুদ্ধাপরাধীদের বইয়ে সয়লাব ছিলো দেশের বাজার। তবে এবার সেটা সবার নজরে এসেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে।
কেননা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ছে যুদ্ধাপরাধী আব্দুল কাদের মোল্লার লেখা বইয়ের কভার। যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ আখ্যা দিয়ে তার লেখা বিভিন্ন বইয়ের প্রচারণা চালাচ্ছে দেশের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। স্বাধীনতা বিরোধীদের এই প্রচারণা রুখতে সরকারের দ্রুত কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
বই নিউজ টোয়েন্টিফোরডটকম এর সম্পাদক ও শ্রাবণ প্রকাশনীর সত্ত্বাধিকারী রবীন আহসান বলেন, যে কেউ বই প্রকাশ করতে পারে। কেননা বই প্রকাশে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। পৃথিবীর কোথাও অবশ্য সেই নিয়ম নেই। বই প্রকাশ করার আগে কোন অনুমোদনও নিতে হয় না। তবে বই ছাপানোর পরে যদি সরকার দেখে যে সেটা দেশের জন্য হুমকিস্বরূপ সেক্ষেত্রে সরকার তা নিষিদ্ধ করতে পারে।

‘রাজাকার বা জঙ্গিবাদীরাও বই ছাপালে আগে অনুমোদন নিতে হয় না। সরকার ঘোষণা দেয়নি কারও উপর বই ছাপানো নিষিদ্ধ কি না। তবে বই ছাপানোর পরে যদি সরকার তা ক্ষতিকর মনে করে তাহলে বইগুলো নিষিদ্ধ করার এখতিয়ার সরকারের আছে। প্রকাশিত হওয়ার পর সরকার এসব বই নিষিদ্ধের পাশাপাশি চাইলে সেসব বইয়ের প্লেটও বাজেয়াপ্ত করতে পারে।’
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, ‘শুধু যে কাদের মোল্লার বই বাজারে আছে সেটা কিন্তু না। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও গোলাম আজমসহ অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীর লেখা বইও আছে বাজারে। যেই আদর্শ থেকে আমরা যুদ্ধাপরাধীর বিচার করলাম সেটা প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে, সত্যিকার অর্থে সমাজ থেকে স্বাধীনতাবিরোধী আদর্শকে নির্মূল করতে হলে এবং সবাইকে সঠিক ইতিহাস জানাতে হলে এসব বই অবশ্যই নিষিদ্ধ করা উচিত।’

এজন্য আইনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তুরিন আফরোজ বলেন, ‘প্রমাণিত অপরাধীর কোন বই বা লেখা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার যে আইন সেটাতে পড়বে। যদিও সেই আইন এখনও আসেনি। আবার কেউ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শেখালো না বরং ভুল আদর্শ প্রচার করলো, বিরোধীতা বা মওদুদীবাদ শেখালো, তাহলে তাদের জন্যও আইন লাগবে। মওদুদীবাদ বন্ধের কোন আইন নেই। তাই এসব বই যেমন নিষিদ্ধ করা যায় তেমন আইনের পাশাপাশি এসব আদর্শকে যেন তারা উজ্জ্বীবিত করতে না পারে সেসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেওয়া উচিত। সেজন্য যত দ্রুত সম্ভব পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’

সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আরিফ জেবতিক বলেন, এ জাতীয় বই এটাই প্রথম নয়। এর আগেও দেলাওয়ার হোসেন সাইদী ও গোলাম আজমেরও এই ধরনের বেশ কিছু বই ছিলো। তবে তখন আমরা এভাবে এতটা জানতে পারিনি। এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে বেশি জানতে পেরেছি। ২০০৮ সালে যখন আমরা ট্রাইব্যুনাল মুভমেন্ট শুরু করি তখনও তারা বিনামূল্যে বই ছাপিয়ে বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের বিলি করেছিল। এটা তাদের গ্লোবাল ক্যাম্পেইনের অংশ। তারা এর পেছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করে। লাখ লাখ বই তারা বিনামূলে বিলি করে গেছে। এখনও এগুলো একই ধারায় প্রচার হয়ে যাচ্ছে!
তবে যত দ্রুত সম্ভব এসব বই নিষিদ্ধ করা উচিত উল্লেখ করে আরিফ জেবতিক বলেন, এসব বই অবশ্যই নিষিদ্ধ করা সম্ভব এবং সেটাই উচিত। সরকারের উচিত এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা। এর আগেও এসব নিয়ে কথা হয়েছে। তবে এখন মনোযোগ না দিলে দীর্ঘমেয়াদে অনেক ভুগতে হবে।
তিনি মনে করেন, এটা অবশ্যই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রচারণা। তাই সরকারের উচিত দ্রুত তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা। তা না হলে তারা বিভ্রান্তি ছড়াবে এবং রাষ্ট্রের ক্ষতি করবে।








